জামাই বটে!

জামাই বটে!

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

কথায় আছে, ‘জামাই আদর’ বলে একটা কথা আছে সমাজে। কিন্তু সেই আদরের সুযোগ নিয়ে শ্বশুরবাড়ির কিস্তির টাকা আর শাশুড়ির গলার চেইন-কানের দুল নিয়ে যদি জামাই নিজেই চম্পট দেন, তবে তাকে ‘জামাই বটে!’ ছাড়া আর কী-ই বা বলা যায়! এমনই এক চটকদার ও চুরির ঘটনা ঘটেছে যশোর সদর উপজেলার দত্তপাড়া গ্রামে। অভিযুক্ত জামাতার নাম জয় বিশ্বাস, যিনি নড়াইল জেলার তুলারামপুর গ্রামের অশোক বিশ্বাসের ছেলে।

ভুক্তভোগী শাশুড়ি শ্রীমতি মনি মালার অভিযোগ, বছর দুয়েক আগে পারিবারিকভাবেই মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলেন জয়ের সাথে। বিয়ের পর জামাতার আবদার মেটাতে কোনো কমতি রাখেনি শ্বশুরবাড়ি। সংসারের জন্য ৫০ হাজার টাকার আসবাবপত্র, ব্যবসার জন্য নগদ ৫০ হাজার এবং পরবর্তীতে আরও বিভিন্ন সময়ে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল ‘বাবাজীবন’কে।

কিন্তু বিপত্তি বাধল মাসখানেক আগে। পারিবারিক সমস্যার ‘অজুহাত’ দেখিয়ে জামাই এসে স্থায়ীভাবে আসন পাতেন শ্বশুরবাড়িতে। মাসভর শাশুড়ির হাতের আদর-আপ্যায়ন ভালোই হজম করেছেন তিনি। এরপর গত ৫ জুন (শুক্রবার) গভীর রাতে যখন বাড়ির সবাই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, তখন জামাই বাবু মাতলেন আসল খেলায়। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে অত্যন্ত কৌশলে ঘর থেকে কিস্তির দেওয়ার জন্য জমিয়ে রাখা নগদ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন তিনি।

টাকাতেই লোভ সামলাতে না পেরে নজর দেন আলমারির গয়নায়। প্রায় এক ভরি ওজনের এক জোড়া স্বর্ণের কানের দুল, গলার চেইন, আংটি, এক জোড়া চুড়ির পাশাপাশি রুপার চেইন ও ব্রেসলেট পকেটে পুরে রাতের অন্ধকারেই উধাও হয়ে যান জয়।

সকালে ঘুম থেকে উঠে শাশুড়ি ও পরিবারের সদস্যরা দেখেন—জামাইও নেই, ঘরের ক্যাশ ও গয়নাগাটিও হাওয়া! এরপর আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও জয়ের কোনো হদিস মেলেনি। এমনকি তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও  বন্ধ রয়েছে।

জামাতার এমন ‘নজিরবিহীন কীর্তি’র পর আর ঘরে বসে থাকতে পারেননি শাশুড়ি। সোনাদানা ও নগদ টাকা উদ্ধারের আসায় তিনি সরাসরি যশোর কোতোয়ালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এদিকে ঘটনাটি তদন্তের দায়িত্ব পাওয়া চাঁচড়া ফাঁড়ির সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) তাহমিদুল জানান, অভিযোগের কপিটি এখনো আনুষ্ঠানিক ভাবে তাঁর হাতে এসে পৌঁছায়নি। কাগজ হাতে পেলেই এই ‘পলাতক জামাই’কে খুঁজতে এবং খোয়া যাওয়া মালামাল উদ্ধারে মাঠে নামবে পুলিশ।ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *