গ্রেপ্তার মোস্তফা ফরিদের অতীত আমলনামা : স্কুলের সভাপতি হতে প্রধান শিক্ষকের অণ্ডকোষ চেপে নির্যাতন!

গ্রেপ্তার মোস্তফা ফরিদের অতীত আমলনামা : স্কুলের সভাপতি হতে প্রধান শিক্ষকের অণ্ডকোষ চেপে নির্যাতন!

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

যশোর জেলা যুবলীগের সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরী গ্রেপ্তার হওয়ার পর, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তার একক আধিপত্য ও ক্ষমতার দাপটে সাধারণ মানুষের ওপর চালানো নানা লোমহর্ষক নির্যাতনের খতিয়ান এখন সামনে আসছে। এর মধ্যে শহরের ঐতিহ্যবাহী আদর্শ বালিকা মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে বাড়ি ডেকে নিয়ে দুই ঘণ্টা ধরে পৈশাচিক নির্যাতন ও অপহরণের ঘটনাটি সে সময় সবচেয়ে বেশি আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।

তৎকালীন ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক নুরুল আমিন জানান, উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষমতার জোরে আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়ের সভাপতি পদটি বাগিয়ে নিতে চাচ্ছিলেন। এরই মধ্যে বিদ্যালয়ে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে ফরিদের নজর পড়ে সেদিকে। তিনি তৎকালীন প্রধান শিক্ষককে ফোন করে চলমান নিয়োগ কার্যক্রম অবিলম্বে বাতিলের নির্দেশ দেন এবং সাফ জানিয়ে দেন—তিনি নিজে সভাপতি হয়ে তার পছন্দমতো লোকবল নিয়োগ দিয়ে বিশাল অঙ্কের বাণিজ্য সম্পন্ন করবেন।

 চেয়ারম্যানের সেই অনৈতিক প্রস্তাবে প্রধান শিক্ষক রাজি না হওয়ায় তার ওপর নেমে আসে চরম নির্যাতন। ফরিদের নির্দেশে তার ক্যাডার বাহিনী প্রথমে ওই প্রধান শিক্ষককে অপহরণ করে। এরপর বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির পূর্বনির্ধারিত নির্বাচন বন্ধ করার জন্য তার ওপর প্রচণ্ড মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে জোরপূর্বক আবেদনপত্র লিখিয়ে নেওয়া হয় এবং নির্বাচন পণ্ড করা হয়। পরবর্তীতে ৯ নভেম্বর বিদ্যালয়ে একটি অভিভাবক সমাবেশ আহ্বান করা হলে মোস্তফা ফরিদ আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং প্রধান শিক্ষককে ফোন করে নিজের বাড়িতে ডেকে পাঠান।

প্রধান শিক্ষক নুরুল আমিন সেই ভয়ংকর অভিজ্ঞতার বিবরণ দিয়ে বলেছিলেন, “চেয়ারম্যানের নির্দেশে তার বাড়িতে যাওয়ার পর আমাকে একটি কক্ষে প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। এ সময় মোস্তফা ফরিদ ও তার লোকজন আমার অণ্ডকোষ চেপে ধরে এবং মাথা ও মুখে উপর্যুপরি ব্যাপক আঘাত করে। আমাকে যখন অবর্ণনীয় যন্ত্রণার পর ছেড়ে দেওয়া হয়, তখন অণ্ডকোষের তীব্র ব্যথা সহ্য করতে না পেরে আমি প্রকাশ্যে রাস্তার ওপর লোকজনের সামনেই প্রস্রাব করে দিতে বাধ্য হই।”

ক্যাডারদের হাত থেকে কোনোমতে রেহাই পেয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষক একটি ফার্মেসি থেকে ব্যথার ওষুধ কিনে খান এবং পরে তার স্ত্রীর সহায়তায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যান। কিন্তু মোস্তফা ফরিদের চোখ এড়ানো যায়নি। খবর পেয়ে চেয়ারম্যান সরাসরি ফোনে তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন এবং হুমকি দিয়ে বলেন, “হাসপাতালে ভর্তি হলে তোকে একদম খুন করে ফেলবো। মানুষ মারলে আমার কিছুই হয় না।” ফরিদের এমন খুনের হুমকিতে চরম আতঙ্কিত হয়ে ওই শিক্ষক গোপনে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হন এবং পরিবার নিয়ে দীর্ঘদিন চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটান।

সে সময় আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে পুলিশ প্রশাসন সব জেনেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। তবে গত শনিবার রাতে মোস্তফা ফরিদ গ্রেপ্তার হওয়ার পর, তার আমলের এসব নির্মম ও পৈশাচিক নির্যাতনের শিকার সাধারণ মানুষ ও শিক্ষকেরা এখন মুখ খুলতে শুরু করেছেন এবং তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *