স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
ফিক্সড ডিপোজিট বা স্থায়ী আমানতের (এফডিআর) মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও লভ্যাংশসহ মূল টাকা ফেরত না পাওয়ার অভিযোগে যশোরে এক্সিম ব্যাংকের হাটখোলা রোড শাখার সামনে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা। আজ মঙ্গলবার (৯ জুন ২০২৬) বিকেল ৫টার দিকে যশোর জেলা হার্ডওয়্যার মালিক সমিতির সদস্যরা ব্যাংকটির সামনে জড়ো হয়ে এই বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
আন্দোলনরত গ্রাহকদের অভিযোগ, যশোর জেলা হার্ডওয়্যার মালিক সমিতির মোট ১১০ জন সাধারণ সদস্য এক বছর মেয়াদে সর্বমোট ৬৫ লাখ টাকা এক্সিম ব্যাংকের উক্ত শাখায় এফডিআর হিসেবে জমা রেখেছিলেন। চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে মুনাফা বা লভ্যাংশসহ তাঁদের মোট পাওনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭২ লাখ ৩ হাজার টাকা। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, এফডিআরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দীর্ঘ প্রায় ছয় মাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের এই পাওনা টাকা পরিশোধ না করে নানা টালবাহানা করছে।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী খান তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমাদের সাধারণ সদস্যরা তাঁদের রক্ত পানি করা কষ্টার্জিত অর্থ ভবিষ্যতের সঞ্চয় হিসেবে ব্যাংকে আমানত রেখেছিলেন। কিন্তু গত ছয় মাস ধরে ব্যাংকে বারবার যোগাযোগ করেও আমরা আমাদের নিজেদের টাকাই তুলতে পারছি না। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এখন আমাদের কয়েক দফায় বা কিস্তিতে টাকা নেওয়ার অদ্ভুত প্রস্তাব দিচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ, ব্যাংকিং নিয়ম অনুযায়ী ফিক্সড ডিপোজিটের অর্থ মেয়াদ পূর্তির পর এককালীন পরিশোধ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে এই বিপুল পরিমাণ টাকা ব্যাংকে আটকে থাকায় আমাদের অনেক ব্যবসায়ী ও সাধারণ সদস্য চরম আর্থিক লোকসান ও সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন।” তাঁরা অবিলম্বে তাঁদের পুরো পাওনা টাকা এককালীন পরিশোধের জোর দাবি জানান।
এই নজিরবিহীন সংকটের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে এক্সিম ব্যাংকের হাটখোলা রোড শাখার ব্যবস্থাপক তরিকুল ইসলাম গ্রাহকদের টাকা আটকে থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে তিনি দাবি করেন, “গ্রাহকদের টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে না। মূলত বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ নির্দেশনা ও তারল্য নীতিমালার আলোকে গ্রাহকদের এই পাওনা টাকা দুই দফায় (কিস্তিতে) পরিশোধের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গাইডলাইন ও নীতিমালা অনুসরণ করেই পুরো বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”
এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক্সিম ব্যাংক ও তৎসংলগ্ন হাটখোলা রোড এলাকায় বেশ কিছু সময় ধরে চরম উত্তেজনা ও গ্রাহকদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। পরবর্তীতে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের আশ্বাসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও গ্রাহকরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাঁদের আমানতের টাকা বুঝিয়ে দেওয়া না হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। ফাইল ছবি সংগৃহীত।

