কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি:
যশোরের কেশবপুরে এক ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার বাড়িতে খাবারের সাথে চেতনানাশক দ্রব্য মিশিয়ে পরিবারের সদস্যদের অজ্ঞান করে নগদ টাকা ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে গেছে অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা। গতকাল সোমবার (৮ জুন) রাতে উপজেলার দোরমুটিয়া গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনাটি ঘটে। আজ মঙ্গলবার (৯ জুন ২০২৬) সকালে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় ওই বাড়ির গৃহবধূকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ভুক্তভোগী গৃহকর্তা সাইফুল কবির টিপু (৪৫) পেশায় একজন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অজ্ঞান পার্টির সক্রিয় সদস্যরা সোমবার রাতে কৌশলে সাইফুল কবির টিপুর বাড়ির খাবারের সাথে চেতনানাশক বা ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে রেখে যায়। রাতের খাবার খেয়ে সাইফুল কবির টিপু ও তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া পারভিন (৪০) গভীর ঘুমে অচেতন হয়ে পড়েন। আজ মঙ্গলবার ভোরে টিপুর ঘুম ভাঙলে তিনি তীব্র অসুস্থতা ও মাথা ঘোরা অনুভব করেন। বিছানা থেকে উঠে তিনি দেখতে পান ঘরের ভেতরের আসবাবপত্র এলোমেলো, শোকেস, আলমারি ও ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ারের তালা ভাঙা এবং বাড়ির ভেতরের ক্রপসিক্যাল গেটটি খোলা রয়েছে।
এ সময় তিনি আতঙ্কে তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া পারভিনকে ডাকাডাকি করলে তাঁকে সম্পূর্ণ জ্ঞানহীন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে গৃহকর্তার চিৎকারে আশপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত ছুটে আসেন এবং সকালের দিকে গৃহবধূ সুরাইয়া পারভিনকে উদ্ধার করে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভূমি সহকারী সাইফুল কবির টিপু জানান, অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা সুপরিকল্পিতভাবে তাদের খাবারের সাথে চেতনানাশক খাইয়ে অজ্ঞান করে বাড়ি থেকে প্রায় ৭ ভরি সোনার গহনা এবং নগদ ২০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে গেছে। চোরচক্রটি তাঁর একটি মোটরসাইকেলও নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল, তবে পরবর্তীতে মোটরসাইকেলটি বাড়ির সামনের একটি বাগানে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
কেশবপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এই বর্বরোচিত চুরির ঘটনার সাথে জড়িত অজ্ঞান পার্টির সদস্যদের শনাক্ত ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।ফাইল ছবি।

