বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে উন্নতমানের পাটের বীজ, পাট ও পাটজাতীয় আঁশের সামগ্রিক উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় স্থানীয় কৃষক-কৃষাণীদের দিনব্যাপী এক বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। আজ শনিবার (২৭ জুন) বেলা এগারোটায় উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নে অবস্থিত পাট গবেষণা উপকেন্দ্রের সুসজ্জিত মিলনায়তনে এই আধুনিক প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশ পাট গবেষণা উপকেন্দ্রের সার্বিক আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিজেআরআই) সম্মানিত মহাপরিচালক ড. নার্গীস আক্তার।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কলাপাড়ার উপকূলীয় অঞ্চলের মাটির উপযোগিতা ও আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি নিয়ে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক (পিটিসি) গোলাম মোস্তফা এবং পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) ইয়ারউদ্দিন সরকার। এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ও প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন কলাপাড়া পাট গবেষণা উপকেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আবদুল্লাহ্ আল বাক্কী। এই দিনব্যাপী নিবিড় প্রশিক্ষণ কর্মশালায় উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের প্রায় অর্ধশতাধিক প্রান্তিক কৃষক ও কৃষাণী অত্যন্ত উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে অংশগ্রহণ করেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধান অতিথি ও অন্যান্য শিক্ষাবিদ-গবেষকেরা বলেন, সোনালী আঁশ পাটের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে এবং দেশব্যাপী উন্নত জাতের পাট চাষের টেকসই সম্প্রসারণের লক্ষে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে দেশের বিশাল উপকূলীয় অঞ্চলে নতুন করে আধুনিক ও সচেতন পাট চাষী তৈরী করতে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট মাঠ পর্যায়ে নানামুখী কার্যকর পদক্ষেপ ও গবেষণা গ্রহণ করছে।
বক্তারা আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষকেরা পাটের উন্নত বীজ উৎপাদন, আধুনিক উপায়ে আঁশ সংগ্রহ এবং রোগবালাই দমনের বৈজ্ঞানিক কৌশল রপ্ত করে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবেন। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী সফল চাষীদের মাঝে আধুনিক চাষাবাদের বিভিন্ন নির্দেশিকা ও প্রয়োজনীয় উপকরণ বিতরণ করা হয়। ছবি-বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু।


