স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
গাইবান্ধাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র ধর্মীয় অনুভূতিতে তীব্র আঘাত, পরম আরাধন্য শ্রীরামচন্দ্রের প্রতি চরম অবমাননা এবং সনাতনীদের প্রধান উপাসনালয় পবিত্র মন্দির গুঁড়িয়ে দেওয়ার ধৃষ্টতাপূর্ণ হুমকির প্রতিবাদে যশোরে এক বিশাল ও অভূতপূর্ব মানববন্ধন এবং বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ২০ জুন ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ শনিবার সকাল ১১টার দিকে ‘বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ’ যশোর জেলা শাখার বিশেষ উদ্যোগে ও আহ্বানে যশোর প্রেসক্লাবের সামনের প্রধান সড়কে এই প্রতিবাদী কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এই কর্মসূচিতে যশোর জেলার ৮টি উপজেলা ও পৌর শহর থেকে আগত হাজার হাজার সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সর্বস্তরের সচেতন নাগরিকেরা ব্যানার, প্লেকার্ড ও ফেস্টুন হাতে নিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এই প্রতিবাদী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে সরাসরি উপস্থিত হয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এই যৌক্তিক আন্দোলনের সাথে পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেন এবং প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, এমপি।
সংহতি সমাবেশে যশোরে পূজা উদযাপন পরিষদের বিশাল মানববন্ধন, তাঁর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বশীল বক্তব্যে দৃঢ়তার সাথে বলেন, “আমাদের এই প্রিয় বাংলাদেশে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানের মধ্যে কোনো ধরনের বৈষম্য বা পার্থক্য নেই। এই দেশ আমাদের সবার। আবহমান কাল ধরে আমরা এখানে সব ধর্মের মানুষ একসাথে মিলেমিশে বসবাস করে আসছি। কোনো কুচক্রী মহল যাতে আমাদের এই চিরন্তন ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সেদিকে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। যেকোনো ধর্মীয় অবমাননার বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।”
মানববন্ধনে উপস্থিত পূজা উদযাপন পরিষদের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ সনাতন ধর্মাবলম্বী বক্তারা অত্যন্ত ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “একটি স্বাধীন ও অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের এমন নোংরা অপচেষ্টা এবং যেকোনো ধর্মের উপাসনালয় কিংবা সম্মানিত ধর্মীয় ব্যক্তিত্বকে নিয়ে অবমাননাকর উগ্র বক্তব্য দেশের সামগ্রিক শান্তি, শৃঙ্খলা এবং হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য এক চরম হুমকিস্বরূপ।” বক্তারা গাইবান্ধাসহ দেশের যেখানেই সনাতনীদের ওপর আঘাত এসেছে, সেইসব কর্মকাণ্ডে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের অনতিবিলম্বে চিহ্নিত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর শাস্তির জোর দাবি জানান।
প্রেসক্লাবের সামনের প্রধান সড়কে দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই মানববন্ধন শেষে সনাতনীদের একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। মিছিল শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত এক প্রতিবাদী সমাবেশে বক্তারা দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি চিরতরে রক্ষা করা এবং সংখ্যালঘু সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সকল সম্প্রদায়ের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমান নির্বাচিত সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান।
আজকের এই বিশাল ও অধিকার আদায়ের কর্মসূচিতে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ যশোর জেলা, উপজেলা ও পৌর শাখার শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ ছাড়াও জেলার বিভিন্ন প্রগতিশীল সামাজিক, প্রগতিশীল রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সনাতন ধর্মীয় বিভিন্ন মঠ-মন্দিরের প্রতিনিধি, বিভিন্ন সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় হিন্দু ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এই কর্মসূচির পর থেকে যশোর শহরের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোর আশপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

