স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর উপশহর এলাকায় দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অবৈধ দখলের সাম্রাজ্য গুঁড়িয়ে দিতে বড় ধরনের অ্যাকশনে নেমেছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। সকাল থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ অভিযানে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা আওয়ামী লীগের দুটি আঞ্চলিক কার্যালয়সহ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা বুলডোজার দিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। দুই দিনব্যাপী এই উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে প্রায় ৫০ কোটি টাকা মূল্যের ৫ একর সরকারি খাস জমি দখলমুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে প্রশাসন।
রবিবার ১০ মে সকাল ৯টা থেকে চলা এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের খুলনা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউর রহমান। অভিযানের শুরুতেই বাবলাতলা এলাকায় সরকারি জমিতে নির্মিত একটি পাকাবাড়ি উচ্ছেদ করা হয়। এরপর উচ্ছেদকারী দলটি গাবতলা মোড় ও বি-ব্লক বাজারে হানা দেয়। সেখানে রাস্তার জায়গা দখল করে নির্মিত বাণিজ্যিক স্থাপনা ও আওয়ামী লীগের একটি আঞ্চলিক কার্যালয় ভেঙে ফেলা হয়।
অভিযানের সবচেয়ে বড় অংশ পরিচালিত হয় উপশহর পার্ক ও আমতলা বস্তি এলাকায়। সেখানে পার্কের সামনে থাকা আওয়ামী লীগের আরেকটি কার্যালয় এবং পাশের দোকানপাট উচ্ছেদ করার পর আমতলা বস্তিতে অভিযান চালানো হয়। ভেকু দিয়ে বস্তির অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ির পাশাপাশি ভেতরে থাকা দুটি অবৈধ ‘ভিক্সল’ কারখানাও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউর রহমান জানান, দখলদারদের বারবার নোটিশ ও মাইকিং করে সরে যেতে বলা হলেও তারা নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করছিল। ফলে সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে কঠোর অবস্থান নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকারি জমি উদ্ধারে কোনো প্রভাবশালী বা রাজনৈতিক পরিচয়কে ছাড় দেওয়া হবে না। আগামী সোমবারও এই অভিযানের দ্বিতীয় দফা কার্যক্রম চলবে।
উচ্ছেদ চলাকালে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে কেউ কেউ অভিযোগ করেন, গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে তারা এতদিন এখানে বসবাস করে আসছিলেন। হঠাৎ উচ্ছেদে অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে মানবেতর অবস্থায় পড়েছে। তবে সাধারণ বাসিন্দারা এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলছেন, দীর্ঘদিনের দখলবাজি বন্ধ হওয়ায় উপশহরের পরিবেশ ও সরকারি রাস্তাগুলো উন্মুক্ত হবে।
অভিযান চলাকালীন যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন ছিল। অভিযানে আরও উপস্থিত ছিলেন যশোরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইমাদুল ইসলাম তুহিন, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আশিক আহম্মেদ সাকিব এবং উপসহকারী প্রকৌশলী রাসেল মিয়া। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃত জমিতে সরকারি পরিকল্পনা মোতাবেক পরবর্তী উন্নয়নমূলক কাজ শুরু করা হবে। ছবি প্রতিবেদক।
