‘আমি চেয়ারম্যান, আমারে ঠেকায় কে!’

‘আমি চেয়ারম্যান, আমারে ঠেকায় কে!’

মোঃ মাসুদ রানা,ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় চলাচলের সাধারণ পথ বন্ধ করে খাস জমিতে জোরপূর্বক দোকানঘর নির্মাণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। বছরের পর বছর ধরে ব্যবহৃত কৃষিভিত্তিক যাতায়াতের পথটি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় তীব্র ক্ষোভ ও চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শত শত স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ পথচারী।

অভিযুক্ত জনপ্রতিনিধি হলেন মহেশপুর উপজেলার ৫নং শ্যামকূড় ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ জামিরুল হক। এ ঘটনায় প্রতিকার ও পথ উন্মুক্ত করার দাবিতে এলাকাবাসীর পক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগসূত্রে জানা যায়, উপজেলার শ্যামকূড় ইউনিয়নের ওই সড়কটি দিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ স্থানীয় কৃষকেরা তাঁদের ক্ষেতের ফসল আনা-নেওয়াসহ দৈনন্দিন কাজে যাতায়াত করে আসছেন। সম্প্রতি ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ জামিরুল হক হঠাৎ করেই ওই যাতায়াতের পথ ঘেঁষে সরকারি খাস জমিতে ব্যক্তিগত দোকানঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেন।

এলাকাবাসীর পক্ষে লিখিত অভিযোগ প্রদানকারী মোঃ জাহিদ হাসান অভিযোগ করে বলেন, “চেয়ারম্যান সাহেব কৃষকদের মাঠে যাওয়ার একমাত্র পথটি আটকে ঘর তুলছেন। আমরা সাধারণ মানুষ রাস্তাটি অন্তত খালি রেখে নির্মাণকাজ চালানোর অনুরোধ জানালে তিনি ভীষণ উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং আমাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এমনকি হুমকি দিয়ে বলেন— ‘যা পারিস করে নিস, আমি এলাকার বর্তমান চেয়ারম্যান, আমার কেউ কিছু করতে পারবে না’।”

তিনি আরও জানান, উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর ইউএনও মহোদয় এলাকা পরিদর্শন করে গেলেও চেয়ারম্যান প্রভাব খাটিয়ে ঘর নির্মাণের কাজ অব্যাহত রেখেছেন।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে অভিযোগ অস্বীকার করে শ্যামকূড় ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ জামিরুল হক বলেন, “আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হওয়া চেয়ারম্যান, অন্য কারও জায়গায় জোর করে ঘর করার লোক আমি নই। সরকারি বা অপরের জায়গা নয়, নিজের জমিতেই আমি দোকানঘর নির্মাণ করছি। কে বা কারা মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছিল, যার প্রেক্ষিতে ইউএনও সাহেব এসে সরেজমিনে দেখে গেছেন।”

এ বিষয়ে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ সাজ্জাদ হোসেন জানান, “এলাকাবাসীর কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। জমিটির প্রকৃত সীমানা নির্ধারণের জন্য স্থানীয় ভূমি কর্মকর্তাকে (এসিল্যান্ড/ইউনিয়ন ভূমি সহকারী) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জায়গাটি মেপে দেখার পর যদি সেটি সরকারি খাস জমি কিংবা জনচলাচলের রাস্তা প্রমাণিত হয়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে নির্মাণকাজ বন্ধ করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে; আর ব্যক্তিগত জায়গা হলে কাজ চলবে।” ছবি সংগৃহীত।

আরো পড়ুন

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *