স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর সদরের দত্তপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের হাতে প্রহৃত হয়েছেন এক সহকারী শিক্ষিকা।
এ ঘটনায় ওই শিক্ষিকা সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে উপজেলা শিক্ষা অফিসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে জানা গেছে, গত ১৮ মে সোমবার সকাল ৯টার দিকে যশোর সদর উপজেলার দত্তপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষিকাকে মারধর করেন প্রধান শিক্ষক আব্দুল জব্বার। স্কুল প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় ভুক্তভোগী শিক্ষিকা জরুরী কাজে উপজেলা শিক্ষা অফিসে যেতে চান। তাকে জরুরী কাজে উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে ডাকা হয়েছে বলে তিনি প্রধান শিক্ষককে বিষয়টি জানান।
কিন্তু অনুমতি না দিয়ে প্রধান শিক্ষক আব্দুল জব্বার ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি জোর করে ওই শিক্ষিকাকে দিয়ে স্কুলে ক্লাস করানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে ওই শিক্ষিকাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন প্রধান শিক্ষক আব্দুল জব্বার। এ সময় অশ্লীল ভাষায় তাকে গালিগালাজও করেন।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার ভুক্তভোগী সহকারী শিক্ষিকা সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন।
এর আগেও প্রধান শিক্ষক আব্দুল জব্বার যশোর সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের রেক্সোনা নামের একজন অফিস সহকারীকে লাঞ্ছিত করেন। তখন উপজেলা শিক্ষা অফিসের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। ওই ঘটনায় প্রধান শিক্ষক আব্দুল জব্বারের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন ও বিভাগীয় মামলা হয়। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হওয়ায় তখন তার দুটি ইনক্রিমেন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়।
অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে দত্তপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল জব্বার বলেন, “ওই শিক্ষিকা তিন দিন স্কুলে আসেন না। এছাড়া শিশুদের ক্লাসে দাঁড়িয়ে ক্লাস করানোর কথা থাকলেও এসব নির্দেশনা মানেন না। এজন্য একটু কথা কাটাকাটি হয়েছে।”
“ওই শিক্ষিকার গায়ে হাত তুলেছেন কি না?”—এমন প্রশ্নের জবাবে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন প্রধান শিক্ষক আব্দুল জব্বার। তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, “আপনি কি দেখেছেন? আমিও সাংবাদিক ছিলাম। আপনি কিসের সাংবাদিক, সেটা দেখব।”
অভিযোগের ব্যাপারে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে যশোর সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মাহিদুল ইসলাম বলেন, “গতকাল এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ ভুক্তভোগী শিক্ষিকা জমা দিয়ে গেছেন। তদন্ত কমিটি করে এ ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

