অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি :
যশোরের অভয়নগরে বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসে ভৈরব নদে গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া ফাতেমা আক্তার বর্ণা (২৮) নামের এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনার দীর্ঘ ৩০ ঘণ্টা পর স্থানীয় জনতা ও ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ উদ্ধারকারী দল শনিবার সন্ধ্যায় ভৈরব সেতুর নিকটবর্তী নদী থেকে তার ভাসমান নিথর দেহটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাতেই লাশটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্ণার নিথর দেহটি গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসার পর সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। স্বজনদের বুক ফাটা আর্তনাদ আর কান্নায় পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।
নিহত ফাতেমা আক্তার বর্ণা অভয়নগর উপজেলার মশরহাটি গ্রামের হাবিবুর রহমানের কন্যা এবং ঢাকার মিরপুর অঞ্চলের বাসিন্দা রবিউল আলম খানের সহধর্মিণী। কয়েকদিন আগেই তিনি ঢাকা থেকে মশরহাটি গ্রামে বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে আনন্দ উল্লাস করে নিজের ভাই, বান্ধবী ও আত্মীয়দের সাথে নওয়াপাড়ার সরদার মিল সংলগ্ন মালোপাড়া ঘাটে গোসল করতে নামেন বর্ণা। গোসলের একপর্যায়ে তিনি নদীর গভীর পানিতে লাফ দিলে জোয়ারের তীব্র স্রোতের তোড়ে মুহূর্তেই তলিয়ে যান। সাথে থাকা লোকজন তাৎক্ষণিক চেষ্টা করেও নদীর গভীরতা ও স্রোতের কারণে তাকে টেনে তুলতে ব্যর্থ হন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে নওয়াপাড়া ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার কাজ শুরু করে। শুক্রবার দুপুর থেকে নদীজুড়ে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হলেও প্রমত্তা ভৈরবের স্রোতের কারণে প্রথম দিন তার সন্ধান মেলেনি। অবশেষে প্রায় ৩০ ঘণ্টার অবিরাম অনুসন্ধানের পর শনিবার সন্ধ্যার দিকে ভৈরব সেতুর নিচে তার গলিত মরদেহটি ভেসে উঠলে উদ্ধারকর্মীরা তা পাড়ে নিয়ে আসেন। বেড়াতে এসে চোখের পলকে একটি তাজা প্রাণ ঝরে যাওয়ায় নিহতের পরিবার ও মশরহাটি গ্রাম জুড়ে এখন কেবলই কান্নার রোল। ছবি সংগৃহীত।

