২০ কোটি টাকা ‘হাপিস’ : সংকটে বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থা

২০ কোটি টাকা ‘হাপিস’ : সংকটে বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থা

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে স্বাবলম্বী করতে সরকারি বরাদ্দের স্থায়ী আমানত বা এফডিআর (FDR) থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ একটি বড় ভিত্তি। কিন্তু বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার নামে থাকা ২০ কোটি টাকার স্থায়ী আমানত কোনো তথ্য ছাড়াই সরিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। সোনালী ব্যাংক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় শাখা থেকে এই অর্থ প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

২০২২ এবং ২০২৪ সালে দুই দফায় ১০ কোটি করে মোট ২০ কোটি টাকা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার জন্য এফডিআর করা হয়েছিল। সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এই টাকার লভ্যাংশের ৮০ শতাংশ দিয়ে সংস্থার দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো। প্রতি চার মাস অন্তর ১২ লাখ টাকা করে লভ্যাংশ জমা হতো সংস্থার গ্রিন রোড শাখার অ্যাকাউন্টে। কিন্তু গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে লভ্যাংশের টাকা জমা হওয়া বন্ধ হয়ে গেলে শুরু হয় রহস্য।

লভ্যাংশ বন্ধ হওয়ার কারণ জানতে চেয়ে বারবার ব্যাংকের হিসাব বিবরণী চেয়েও পায়নি মহিলা ক্রীড়া সংস্থা। দীর্ঘ সময় গড়িমসি করার পর ব্যাংক থেকে জানানো হয়, “অফিসিয়ালি কিছু জানানো যাবে না।” এমনকি নির্বাচনের পর যোগাযোগের পরামর্শও দেওয়া হয়। অবশেষে চলতি বছরের এপ্রিলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, গত জানুয়ারি মাসেই ওই ২০ কোটি টাকা প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ফিরোজা করিম নেলী এই ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, বরাদ্দ বাতিল বা অর্থ ফেরত নেওয়ার বিষয়ে সংস্থাকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানানো হয়নি। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের এমন লুকোচুরি ও গোপনীয়তা বিষয়টিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।

যেখানে বর্তমান সরকার খেলোয়াড়দের ভাতা দিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে প্রাণ সঞ্চারের চেষ্টা করছে, সেখানে একটি স্বনামধন্য ক্রীড়া সংস্থার মূল তহবিল এভাবে সরিয়ে নেওয়াকে আত্মঘাতী হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। শুধু মহিলা ক্রীড়া সংস্থা নয়, সোনালী ব্যাংকের আরও কিছু খাতের অর্থ এভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। অর্থ সংকটে ধুঁকতে থাকা ফেডারেশনগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সূত্র : কালবেলা।
ছবি ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *