২৬ ক্লিনিকের সম্পদ লুট : সূর্যের হাসি নেটওয়ার্কের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা

২৬ ক্লিনিকের সম্পদ লুট : সূর্যের হাসি নেটওয়ার্কের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

সাড়ে চার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সূর্যের হাসি নেটওয়ার্কের পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে যশোর আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার পিকেএস সংস্থার পক্ষে যশোরের চাঁচড়া ডালমিল শাখার সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান মামলাটি দায়ের করেন। মামলার নম্বর সিআর-১৪৭১/২৬।
যশোরের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছাদুল ইসলাম মামলাটি তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পিবিআই যশোরের বিশেষ পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার আসামিরা হলেন— সূর্যের হাসি নেটওয়ার্কের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও শায়লা পারভীন, জেনারেল ম্যানেজার ও মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান নুরুল আবসার, ইন্টারনাল অডিট অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স বিভাগের প্রধান মনোরঞ্জন মণ্ডল, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার ব্যক্তিগত সহকারী সাজ্জাদুজ্জামান এবং ফাইন্যান্স অ্যান্ড অপারেশন বিভাগের এক্সিকিউটিভ ইয়াছিন আলম।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, পিকেএস পরিবার কল্যাণ সমিতি একটি সরকার অনুমোদিত স্বাস্থ্যসেবামূলক এনজিও প্রতিষ্ঠান। সংস্থাটি দীর্ঘদিন ধরে হতদরিদ্র মা ও শিশুদের মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্যসেবা, চক্ষু চিকিৎসা, ছানি অপারেশন, লেন্স স্থাপন এবং থ্যালাসেমিয়া রোগীদের স্বল্পমূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, ১৯৮২ সাল থেকে খুলনা বিভাগের ২৬টি ক্লিনিকের মাধ্যমে সূর্যের হাসি নেটওয়ার্ক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। ইউএসএআইডির অর্থায়নে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলেও ২০১৮ সালে ফান্ড বন্ধ হয়ে যায়। পরে ডোনার সংস্থার পরামর্শে পিকেএসের মাধ্যমে যশোরসহ আশপাশের এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ৪ ডিসেম্বর যশোরের চাঁচড়া ডালমিল এলাকায় পিকেএস ভবন ভাড়া নেওয়ার পর যশোর, খুলনা, চুয়াডাঙ্গা, সাতক্ষীরা, নড়াইল ও মাগুরাসহ বিভিন্ন জেলার ২৬টি ক্লিনিক পরিচালনার দায়িত্ব সূর্যের হাসি নেটওয়ার্ককে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ক্লিনিকগুলোর চিকিৎসা সরঞ্জাম ও মালামাল স্বাস্থ্যসেবার কাজে ব্যবহারের শর্তে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বাদীপক্ষের দাবি, আসামিরা ওই ২৬টি ক্লিনিক থেকে অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও মালামাল আত্মসাৎ করেছেন, যার আর্থিক মূল্য ৪ কোটি ৩৮ লাখ ৭২ হাজার ৯১৮ টাকা ১০ পয়সা।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি আসামিদের ডেকে মালামাল ও অর্থ ফেরত চাওয়া হলে তারা কোনো সদুত্তর না দিয়ে সেখান থেকে চলে যান। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *