স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে পুষ্টি সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মৌসুমি ফলের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে এক ব্যতিক্রমী ও আনন্দঘন ‘দেশি ফল উৎসব’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের অন্যতম জনপ্রিয় শিশু-কিশোর সংগঠন ‘কচি কণ্ঠের আসর’-এর যশোর জেলা শাখার উদ্যোগে আজ ১২ জুলাই, রবিবার বিকেলে শহরের আরবপুর রেল কলোনি এলাকায় এই উৎসবের আয়োজন করা হয়।
দিনব্যাপী এই আয়োজনে ফলের পুষ্টিগুণ নিয়ে আলোচনা, ফল উৎসব এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পর্বের মধ্য দিয়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে এক অন্যরকম আনন্দের জোয়ার বয়ে যায়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে আমাদের চিরচেনা দেশি ফলের নানাবিধ পুষ্টিগুণ ও কার্যকারিতা নিয়ে বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। কচি কণ্ঠের আসরের যশোর জেলা শাখার সম্মানিত সদস্য সচিব রাইয়াদ ফেরদৌস হামিমের অত্যন্ত চমৎকার ও সাবলীল সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সামাজিক সংগঠন ‘ইচ্ছে ডানা’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রিফাত আহমেদ বাবু।
নিজের বক্তব্যে রিফাত আহমেদ বাবু শিশুদের উদ্দেশে বলেন, “বিদেশি ফলের চেয়ে আমাদের দেশি ফল অনেক বেশি তাজা, পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত। নিয়মিত দেশি ফল খেলে আমাদের শরীর রোগ-বালাই মুক্ত থাকে। তাই শিশুদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় পর্যাপ্ত পরিমাণ দেশি ও মৌসুমি ফল রাখা অত্যন্ত জরুরি।”
সংগঠনটির অর্থ সচিব আমিনুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বলেন, “মৌসুমি ফল সহজলভ্য এবং সাধারণ পরিবারের শিশুদের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে দারুণ ভূমিকা রাখে। আমাদের এই উৎসবের মূল উদ্দেশ্যই হলো কোমলমতি শিশু-কিশোরদের দেশি ফলের প্রতি সম্পৃক্ত ও সচেতন করা।”
উৎসবের মূল আকর্ষণ ছিল ফল চেনা ও ফল খাওয়া পর্ব। যেখানে আরবপুর রেল কলোনি ও আশপাশের এলাকার অর্ধশতাধিক সুবিধাবঞ্চিত শিশু অংশ নেয়। হরেক রকমের দেশি ফলের সমাহার দেখে এবং সেগুলো তৃপ্তিভরে খেয়ে খুদে শিশুরা দারুণ আনন্দ প্রকাশ করে। উৎসবের দ্বিতীয় পর্বে এক বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে চমৎকার কবিতা আবৃত্তি করে উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করে তানজিল আহমেদ।
সমাপনী বক্তব্যে কচি কণ্ঠের আসরের সভাপতি ফারহীন আহমেদ সংগঠনের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরে বলেন, “দেশজুড়ে কচি কণ্ঠের আসর শিশুদের মেধা, মনন ও সার্বিক সামাজিক সুরক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় আজ যশোরের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। আগামীতেও আমাদের এই মানবিক ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত থেকে শিশুদের উৎসাহিত করেন নাহিদ হাসান, আসমা ইসলাম, ফারহানা খান ও ধীমান আল হামীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। শিশুদের মাঝে ফল বিতরণের মধ্য দিয়ে এই উৎসবমুখর অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। ছবি সংগৃহীত।


