লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি ও প্রসাধনীসহ ৩ নারী আটক

লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি ও প্রসাধনীসহ ৩ নারী আটক

স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :

যশোর শহরের রেলস্টেশন প্ল্যাটফর্ম এলাকায় রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আনুমানিক প্রায় এক লাখ টাকা মূল্যের অবৈধ ভারতীয় শাড়ি ও নামী ব্র্যান্ডের প্রসাধনী সামগ্রীর একটি চালান জব্দ করেছে। এ সময় চোরাচালানের সাথে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে তিন নারী চোরাকারবারিকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে।

গতকাল শনিবার দুপুরে যশোর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির একটি চৌকস দল স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে এই অভিযান চালায়।

আটককৃত নারীরা হলেন— সাহিদা খাতুন (৫৫), হাসিনা খাতুন (৪৫) এবং সেলিনা বেগম (৪৫)। তারা দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে রেল রুট ব্যবহার করে অবৈধ মালামাল আনা-নেওয়া করছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।

যশোর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত পার হয়ে আসা ভারতীয় চোরাচালানি পণ্যের একটি বড় চালান ট্রেনে করে দেশের অভ্যন্তরে পাচারের উদ্দেশ্যে রেলস্টেশনে অবস্থান করছে—এমন একটি সুনির্দিষ্ট গোপন তথ্য পুলিশের কাছে আসে। এই সংবাদের ভিত্তিতে যশোর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ লিটন মিয়ার নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্সসহ স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম এলাকায় একটি বিশেষ ও ঝটিকা অভিযান চালানো হয়।

অভিযান চলাকালীন প্ল্যাটফর্মে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করা ওই তিন নারী পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তড়িঘড়ি করে ব্যাগপত্র নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় নারী পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় ধাওয়া করে তাদের প্ল্যাটফর্মের ওপর থেকেই আটক করা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তাদের সাথে থাকা বড় বড় ট্রাভেল ব্যাগ তল্লাশি করে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা ভারতীয় ৫৫টি আকর্ষণীয় শাড়ি এবং ৭৩টি পন্ডস ফেসক্রিম উদ্ধার করা হয়।

রেলওয়ে পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, জব্দকৃত এই চোরাচালানি শাড়ি ও প্রসাধনী সামগ্রীর আনুমানিক বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৯৫ হাজার ৫৫০ টাকা।

যশোর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ লিটন মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আটককৃত নারীদের বিরুদ্ধে চোরাচালান ও শুল্ক ফাঁকির অপরাধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ভারতীয় মালামাল ও প্রসাধনী জব্দ তালিকাভুক্ত করে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। রেলওয়ে স্টেশন ও ট্রেনে চোরাচালান প্রতিরোধে পুলিশের এই কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত তল্লাশি অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। ছবি সংগৃহীত।

আরো পড়ুন

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *