স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
অবুঝ শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের পৈশাচিক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও জড়িত খুনিদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে যশোর। আজ রাজপথে নেমে এসে খুনিদের ফাঁসির দাবিতে ফেটে পড়েছেন সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ ও সচেতন ছাত্রসমাজ।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে যশোর প্রেসক্লাবের সামনের প্রধান সড়কে ‘যশোর বিপ্লবী ছাত্রজনতা’র ব্যানারে এই বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। স্বতঃস্ফূর্ত এই কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, মানবাধিকার ও ছাত্র সংগঠনের শত শত নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নিষ্পাপ ও অবুঝ শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড পুরো সমাজ ও মানবতাকে নাড়া দিয়েছে। এই ধরণের বর্বরতা সভ্য সমাজে মেনে নেওয়া যায় না।” ঘটনার পর জড়িত প্রধান আসামিদের দ্রুত আটক করার জন্য বক্তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ধন্যবাদ জানালেও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শুধু গ্রেফতার করলেই হবে না; অনেক ক্ষেত্রে আইনি ফাঁকফোকর বা কালক্ষেপণের কারণে অপরাধীরা পার পেয়ে যায়। আমরা চাই এই মামলার চার্জশিট দ্রুত জমা দিয়ে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচার সম্পন্ন করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি (ফাঁসি) নিশ্চিত করতে হবে।”
সমাবেশে ছাত্রনেতারা আরও বলেন, “আজ আমাদের ঘরের সন্তানেরা ঘরের বাইরে নিরাপদ নয়। শিশুদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে সবার আগে সমাজকে সচেতন হতে হবে এবং অপরাধীদের মনে আইনের ভয় তৈরি করতে হবে। ভবিষ্যতে যেন আমাদের যশোরে এমন মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনা আর কোনো মায়ের বুক খালি না করে, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের আরও কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।”
ঘণ্টাব্যাপী চলা এই মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা রামিসা হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানিয়ে বিভিন্ন ক্ষুব্ধ ও প্রতিবাদী স্লোগান দেন। এ সময় আন্দোলনকারীদের হাতে ‘রামিসার খুনিদের ফাঁসি চাই’, ‘নিরাপদ শৈশব চাই’, ‘খুনিদের আইনি লবিং বন্ধ করো’ সংবলিত বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন শোভা পেতে দেখা যায়। সমাবেশ থেকে আলটিমেটাম দিয়ে বলা হয়, বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো ধরণের অবহেলা দেখা দিলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।ছবি সংগৃহীত।

