মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি:
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বাবুখালী ইউনিয়নের মাছিনাগড়া গ্রামে সরকারি খাল থেকে গভীর রাতে অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ‘একতা ব্রিকস’ নামের একটি ইটভাটার মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত রাতে খালের তলদেশ থেকে মাটি কাটার সময় স্থানীয় জনতা হাতেনাতে ঘটনাটি ধরে ফেলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতের আঁধারে গ্রামের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি খাল থেকে শক্তিশালী এক্সকাভেটর (ভেকু) ব্যবহার করে মাটি কাটা হচ্ছিল। পরে সেই মাটি ট্রাক্টরের মাধ্যমে ইটভাটায় নেওয়া হচ্ছিল। গভীর রাতে যন্ত্রের বিকট শব্দে এলাকাবাসীর ঘুম ভেঙে গেলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি বোঝাই ট্রাক্টর ও ভেকু দেখতে পান। স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে সংশ্লিষ্টরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগের চেষ্টা করেন।
অভিযোগ রয়েছে, ‘একতা ব্রিকস’ দীর্ঘদিন ধরে কোনো ধরনের বৈধ নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের নীতিমালা উপেক্ষা করে সেখানে কয়লার পরিবর্তে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে বলেও দাবি এলাকাবাসীর। এতে পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ভাটার মালিকপক্ষ নানা অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছে। অভিযুক্ত ইটভাটার মালিক লাভলু মিয়া ও হালিম মোল্লা সরকারি খালের মাটি কাটার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলেও জানা গেছে। এলাকাবাসীর দাবি, রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব দেখিয়ে তারা প্রকাশ্যে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন।
এদিকে দেশজুড়ে যখন খাল পুনঃখনন, জলাবদ্ধতা নিরসন ও পরিবেশ রক্ষায় সরকারি উদ্যোগ চলমান, তখন সরকারি খাল দখল ও মাটি লুটের মতো ঘটনা জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অপরিকল্পিতভাবে খালের মাটি কাটার ফলে বর্ষা মৌসুমে পাড় ধস, ফসলি জমির ক্ষতি এবং পানিপ্রবাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকরা।
এ ঘটনায় এলাকাবাসী অবৈধ মাটি কাটা অবিলম্বে বন্ধ, সরকারি খাল রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে পরিচালিত ইটভাটার বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। ছবি সংগৃহীত।
