স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর হাউজিং এস্টেটের দেওয়া দায়মুক্তি সনদ, রেজিস্ট্রি দলিল এবং নিয়মিত খাজনা-ট্যাক্স পরিশোধের যাবতীয় বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও উচ্ছেদের নামে এক বৃদ্ধার বসতঘর ও দোকানপাট ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় একটি কুচক্রী মহলের ইন্ধনে হাউজিং কর্মকর্তাদের জালিয়াতি ও গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে এই উচ্ছেদ চালানো হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারটির।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, যশোর শিক্ষা বোর্ড কর্মচারী গোফরান মিয়ার স্ত্রী আঞ্জুয়ারা বেগম ১ লাখ ১২ হাজার টাকা মূল্যে একটি চুক্তিপত্রের মাধ্যমে সৈয়দ আহম্মেদের কাছ থেকে উপশহরের সেক্টর-৭, এ/৮ নাম্বারের প্লটটি ক্রয় করেন। প্লটটি ১৯৬৬ সালে সৈয়দ আহম্মেদকে ৯৯ বছরের জন্য লিজ দিয়েছিল হাউজিং এস্টেট। কিস্তির টাকা সম্পূর্ণ পরিশোধ করায় হাউজিং কর্তৃপক্ষ সৈয়দ আহম্মেদকে ‘দায়মুক্তি সনদ’ (স্মারক নং ৬০৫, দলিল নং ৩৩৭) প্রদান করে। পরবর্তীতে আঞ্জুয়ারা বেগম পাওয়ার অব অ্যাটর্নি মূলে মালিক হয়ে হাউজিংয়ের কাছে প্লটটি বিক্রির অনুমতি চাইলেও রহস্যজনকভাবে তাকে অনুমতি দেওয়া হয়নি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ২০১৯ সাল থেকে হাউজিং এস্টেটের তৎকালীন এ.ও এবং বর্তমানে উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইমাদুল ইসলাম তুহিন ওই প্লটটি নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র শুরু করেন। ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে একটি প্লটকে দুটি দেখিয়ে জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১১ এপ্রিল সকালে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ও হাউজিং এস্টেট কোনো কর্ণপাত না করে বুলডোজার দিয়ে আঞ্জুয়ারা বেগমের ৪০ বছরের বসতঘর গুঁড়িয়ে দেয়।
উচ্ছেদ অভিযানে আঞ্জুয়ারা বেগমের বসতঘর ছাড়াও সামনের তিনটি দোকান ভেঙে দেওয়া হয়। দোকানদারদের দাবি, ‘জননী ফার্মাসি’সহ তিনটি দোকানের প্রায় ১০ লাখ টাকার ওষুধ ও মালামাল নষ্ট হয়েছে। এছাড়া উচ্ছেদের সুযোগে ঘরের নগদ টাকা ও মালামাল লুটে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। বর্তমানে বৃদ্ধার ছেলে বাবু ও মেয়ে রুমা তাদের পরিবার নিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
এ বিষয়ে হাউজিং এস্টেটের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আশিক আহমেদ সাবিক জানান, চলমান উচ্ছেদ অভিযানের অংশ হিসেবে অবৈধ স্থাপনা সরানো হয়েছে। তবে আঞ্জুয়ারা বেগমের কাগজের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি দায়ভার খুলনা ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউর রহমানের ওপর চাপিয়ে দেন। অন্যদিকে, অভিযুক্ত প্রকৌশলী ইমাদুল ইসলাম তুহিন তার বিরুদ্ধে ওঠা ষড়যন্ত্রের অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, সরকারি বিধিমতে কাগজ সঠিক না থাকায় ওই প্লটের দলিল বাতিল করে উচ্ছেদ চালানো হয়েছে।
কান্নায় ভেঙে পড়ে বৃদ্ধা আঞ্জুয়ারা বেগম প্রশ্ন করেন, “টাকা দিয়ে জমি কিনে, দায়মুক্তি সনদ ও খাজনা দিয়েও কেন উচ্ছেদ হতে হবে? দেশে কি কোনো সরকার নেই?” তিনি এই অন্যায়ের বিচার এবং ক্ষতিপূরণ চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তদন্তের মুখে প্রকৌশলী তুহিন: এদিকে, যশোর হাউজিং এস্টেটের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইমাদুল ইসলাম তুহিনের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানির অসংখ্য অভিযোগ দীর্ঘদিনের। শুধু আঞ্জুয়ারা বেগমের প্লটই নয়, হাউজিংয়ের আরও একাধিক প্লট ভাগ-বাটোয়ারা এবং নামজারি নিয়ে তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের তথ্য সামনে আসছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, তুহিনের এই সিন্ডিকেটের কারণেই অনেক প্রকৃত মালিক আজ ভিটেমাটি হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন।
ইমাদুল ইসলাম তুহিনের বিরুদ্ধে ওঠা এই বিপুল সংখ্যক অভিযোগের বিষয়ে বর্তমানে গভীর অনুসন্ধানের পাশাপাশি তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে। আমাদের অনুসন্ধান টিমের হাতে আসা চাঞ্চল্যকর এসব অনিয়মের তথ্য নিয়ে ধারাবাহিকভাবে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে স্ফুলিঙ্গে। চোখ রাখুন পরবর্তী খবরের দিকে। ছবি সংগৃহীত।


