যশোর ডিবির হাতে আটক মোটরসাইকেল ‘গায়েব’ !

যশোর ডিবির হাতে আটক মোটরসাইকেল ‘গায়েব’ !

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৮০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুই মাদক কারবারিকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। তবে অভিযানের পর জব্দ করা একটি দামি মোটরসাইকেল রহস্যজনকভাবে মামলার তালিকা থেকে বাদ পড়া এবং পুলিশের পক্ষ থেকে তথ্য প্রদানে অসহযোগিতার কারণে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে শার্শা থানার বাগআঁচড়া ইউনিয়নের আমতলা এলাকায় নাভারণ-সাতক্ষীরা মহাসড়কে এ অভিযান পরিচালিত হয়। ডিবি পুলিশের এসআই বাবলা দাস, এএসআই হাফিজুর রহমান ও এএসআই নাজমুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত একটি টিম আমতলা গ্রামস্থ আরশাদ আলীর বাড়ির সামনে থেকে ইস্রাফিল হোসেন (২৪) ও সাদ্দাম হোসেন (৩০) নামে দুই যুবককে আটক করে। তল্লাশি চালিয়ে তাদের কাছ থেকে ৮০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

অভিযান চলাকালে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি দামী মোটরসাইকেলও ডিবি পুলিশ জব্দ করেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায়, মামলার জব্দ তালিকায় সেই মোটরসাইকেলের কোনো উল্লেখ নেই। অভিযোগ উঠেছে, অজ্ঞাত কারণে সেটি আসামিদের স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত এসআই বাবলা দাসের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি অভিযোগটি অস্বীকার করে একে ‘মিথ্যা’ বলে দাবি করেন। তবে ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা মামলার সাক্ষীদের নাম ও ফোন নম্বর জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদককে কোনো তথ্য না দিয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই কামরুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। পরবর্তীতে এসআই কামরুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাক্ষীদের তথ্য দেবেন বলে জানালেও শেষ পর্যন্ত আর কোনো তথ্য প্রদান করেননি।

স্থানীয় একাধিক সূত্র দাবি করেছে, আটক দুই যুবক দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকলেও রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় তারা এতদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল। সচেতন মহলের মতে, মাঝে মধ্যে দু-একজন খুচরা কারবারি গ্রেপ্তার হলেও মূল হোতারা থেকে যাচ্ছে নিরাপদে। পুলিশের এমন বিতর্কিত ভূমিকা ও তদন্ত কর্মকর্তাদের অসহযোগিতা মাদক নির্মূল অভিযানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

যশোর ডিবি পুলিশের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর সুজন কুমার মণ্ডল জানান, তিনি জরুরি কাজে বাইরে থাকায় বিস্তারিত জানেন না। তবে তিনি নিশ্চিত করেন যে, ইয়াবা জব্দ ও আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, শুধুমাত্র বাহক নয়— মাদকের মূল উৎস এবং এর পেছনে থাকা রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকদের আইনের আওতায় আনতে হবে। সেই সঙ্গে ডিবির অভিযানে মোটরসাইকেল গায়েবের বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য জনসম্মুখে আনার দাবি জানিয়েছেন তারা। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *