স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর শহরের বেজপাড়া এলাকার বাসিন্দা লাবনী আক্তার তাঁর স্বামী ও স্বামীর দ্বিতীয় স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুই কন্যাসন্তানসহ নিজেকে অধিকারবঞ্চিত করার অভিযোগ তুলেছেন। একই সাথে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে জড়িয়ে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি। আজ রবিবার (৭ জুন ২০২৬) দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব দাবি করেন।
লিখিত বক্তব্যে লাবনী আক্তার জানান, ২০১৮ সালে যশোর আরএন রোডের বাসিন্দা জিতুর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে মাসে তাঁর স্বামী তাঁর অনুমতি ছাড়াই মুন নামের এক নারীকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর থেকেই লাবনী শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন এবং একপর্যায়ে তাঁকে দুই সন্তানসহ বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।
লাবনী আরও দাবি করেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি যখন অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন, সেই অবস্থায় তাঁকে তালাকের নোটিশ পাঠানো হয়। পরবর্তীতে তাঁর দ্বিতীয় সন্তান জন্ম নিলেও স্বামী বা তাঁর পরিবার সন্তানদের কোনো দায়িত্ব নেয়নি। বর্তমানে তিনি তাঁর সন্তানদের ন্যায্য অধিকার ও সামাজিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লাবনী তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা ‘দোকান লিখে নেওয়া’র অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “একটি দোকান আমি আমার নিজের উপার্জিত অর্থে কিনেছি এবং অন্য একটি দোকানে অংশীদার হয়েছি আমার স্বর্ণালঙ্কার বিক্রি ও ব্যবসায় বিনিয়োগের মাধ্যমে। অথচ এখন মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে আমাকে অপরাধী সাজানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।”
নিজের চারিত্রিক দৃঢ়তা প্রমাণে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, “আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করতে ‘নেশাগ্রস্ত’ বলা হচ্ছে। আমি প্রশাসনকে অনুরোধ করব—অভিযোগকারী পক্ষ এবং আমার ‘ডোপ টেস্ট’ করা হোক। এতেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাঁর ব্যক্তিগত আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম স্বামীর বাসায় আটকে রাখা হয়েছে যা তিনি নিতে পারছেন না।
একজন মা হিসেবে কেবল নিজের ও সন্তানদের আইনগত অধিকার এবং মর্যাদা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে লাবনী আক্তার পুরো বিষয়টি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। একই সাথে কোনো সংবাদ প্রকাশের আগে সব পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ করে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার নীতি অনুসরণের জন্য তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি অনুরোধ জানান।ছবি সংগৃহীত।

