স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর উপশহরের প্রান্তিক পেট্রোলিয়াম পাম্পে তেল নিতে আসা গ্রাহকদের ওপর নতুন এক ‘মজবুরি’ চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তেল পেতে হলে বাধ্যতামূলকভাবে পাম্পের নির্ধারিত মবিল কিনতে হচ্ছে গ্রাহকদের। পাম্প কর্তৃপক্ষের এমন স্বেচ্ছাচারিতায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে পাম্পটিতে তেল নিতে আসা একাধিক গ্রাহক এমন হয়রানির শিকার হন।
ভুক্তভোগী গ্রাহকরা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে তারা মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানে তেল নিতে গেলে পাম্পের কর্মচারীরা সাফ জানিয়ে দেন, পেট্রোল বা অকটেনের সাথে নির্দিষ্ট পরিমাণ মবিল না কিনলে তেল দেওয়া হবে না। তেলের সংকটের সুযোগ নিয়ে এভাবে বাড়তি পণ্য গছিয়ে দেওয়ার ঘটনায় পাম্প চত্বরেই হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। অনেকেই প্রতিবাদ করলেও পাম্প কর্তৃপক্ষ তাদের সিদ্ধান্তে অনড় ছিল।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রান্তিক পেট্রোল পাম্পের বর্তমান পরিচালকের সরাসরি নির্দেশেই এসব বিতর্কিত কর্মকাণ্ড চলছে। গ্রাহকদের জিম্মি করে অতিরিক্ত মুনাফা লাভের লক্ষ্যেই ‘তেলের সাথে মবিল’ দেওয়ার এই ফন্দি আঁটা হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাম্পের এক কর্মচারী জানান, উপরমহলের নির্দেশ পালন করতে গিয়ে তারা প্রায়ই সাধারণ মানুষের তোপের মুখে পড়ছেন।
এই পাম্পের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ নতুন নয়। পেট্রোল ও অকটেনে ভেজাল মেশানো এবং পরিমাপে কম দেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ইতিপূর্বে একাধিকবার ভ্রাম্যমাণ আদালত এই পাম্পে অভিযান চালিয়ে অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ জরিমানা আদায়ের রেকর্ড রয়েছে। কিন্তু বারবার জরিমানা সত্ত্বেও বর্তমান পরিচালকের অধীনে পাম্পটির সেবার মান উন্নত হওয়ার পরিবর্তে গ্রাহক হয়রানি আরও বেড়েছে।
এলাকাবাসী ও নিয়মিত গ্রাহকদের দাবি, তেলের সাথে বাড়তি পণ্য কিনতে বাধ্য করা সরাসরি ভোক্তা অধিকার আইনের লঙ্ঘন। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দিনের পর দিন এমন অনিয়ম চলায় ক্ষুব্ধ যশোরবাসী। আবারও দ্রুত এই পাম্পে অভিযান চালিয়ে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসন ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
ছবি প্রতিবেদক।


