স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর শহরের ব্যস্ততম ষষ্ঠীতলা এলাকায় একটি নামী পুরুষ সেলুন ও পার্লারে চুরির ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দুই চোরকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। একই সাথে গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চুরি হওয়া মূল্যবান মালামাল ও এসির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার (১৫ জুলাই ২০২৬) দুপুরে গ্রেফতারকৃত দুই আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— যশোর শহরের ষষ্ঠীতলা এলাকার সুমন আহমেদের ছেলে সাকিব হাসান (২২) এবং শংকরপুর ছোটনের মোড় এলাকার আব্দুল হালিমের ছেলে আলী আকবর (২৫)। এ ঘটনায় সেলুনের ভুক্তভোগী মালিক বাদী হয়ে যশোর কোতোয়ালি থানায় একটি চুরির মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার বিবরণ ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, যশোর শহরের মুজিব সড়ক এলাকার বাসিন্দা তরিকুল হোসেন ষষ্ঠীতলা জিলা স্কুলের মূল গেটের সামনে ‘টি-রেক্স’ নামে একটি আধুনিক পুরুষ সেলুন ও পার্লার পরিচালনা করে আসছেন। গত ১২ জুলাই রাত ১০টার দিকে প্রতিদিনের মতো দোকান বন্ধ করে তিনি বাসায় যান। পরদিন ১৩ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টার আগেই যেকোনো এক প্রহরে চতুর দুর্বৃত্তরা দোকানের শাটারের লোহার হ্যাজবোল্ট কেটে ভেতরে প্রবেশ করে এবং আলমারি ও ড্রয়ার ভেঙে বিভিন্ন মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়।
চুরি হওয়া মালামালের মধ্যে ছিল একটি আস্ত এসির ইনডোর ইউনিট, পাঁচটি হেয়ার কাটার মেশিন, একটি সিসি ক্যামেরা, একটি রাউটার, ক্যাশবাক্সে থাকা নগদ সাত হাজার টাকা এবং দুই জোড়া নতুন জুতা। পরদিন সকালে দোকান খোলার পর চুরির বিষয়টি বুঝতে পেরে পার্লার মালিক তরিকুল হোসেন কোতোয়ালি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগটি পাওয়ার পরপরই কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল্লাহ আল মামুন মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেন। তদন্তের প্রথম ধাপেই পার্লারের আসেপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করে চোরের চেহারা ও পরিচয় নিখুঁতভাবে শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে তাদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান নিশ্চিত করে মাঠে নামে পুলিশের একটি চৌকস আভিযানিক দল।
অভিযান পরিচালনাকালে গত মঙ্গলবার দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে শহরের রেল রোডের জনি কাবাবের সামনে থেকে মূল অভিযুক্ত সাকিব হাসানকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার নিজ বসতবাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে চুরি হওয়া চারটি হেয়ার কাটার মেশিন এবং একটি ভাঙা সিসি ক্যামেরা উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে সাকিবের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী একই দিন বিকেল ৩টা ৫ মিনিটে শংকরপুর ছোটনের মোড় এলাকা থেকে চুরির মালামালের ক্রেতা ও সহযোগী আলী আকবরকে গ্রেফতার করা হয়। আলী আকবর চুরির এসির যন্ত্রাংশ সস্তা দামে কেনার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেন। এরপর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্থানীয় একটি ভাঙারির দোকান থেকে ১ কেজি ৬০০ গ্রাম গলানো তামার তার, প্রায় ১ কেজি ৫০০ গ্রাম অ্যালুমিনিয়ামের জাল এবং এসির প্লাস্টিকের ভাঙা কিছু অংশ উদ্ধার ও জব্দ করা হয়।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, চুরি হওয়া বাকি মালামাল ও নগদ টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। বুধবার দুপুরে গ্রেফতারকৃত সাকিব ও আলী আকবরকে যশোর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ঘটনার দ্রুততম সময়ে চোর গ্রেফতার ও মালামাল উদ্ধারে পুলিশের এই ভূমিকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। ছবি সংগৃহীত।


