স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
ঢাকার আশুলিয়ায় মাদক ব্যবসার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে হাসিবুল ইসলাম জনি (২১) নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা ও লাশ পুকুরে ফেলে আলামত গোপনের চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। দীর্ঘ দেড় বছর ধরে চলা নিবিড় তদন্ত, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই হত্যাকাণ্ডের ক্লুলেস জট খুললো। এ ঘটনায় জড়িত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।
পিবিআই ঢাকা জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখ বিকেলে আশুলিয়ার মধুপুর উত্তরপাড়ার জনৈক নাজমুল হোসেনের পুকুর থেকে ভাসমান অবস্থায় হাসিবুল ইসলাম জনির লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মোঃ শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে ৮ থেকে ১০ জন অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। থানা পুলিশ প্রাথমিক পর্যায়ে ৬ দিন মামলাটি তদন্ত করার পর, পিবিআই ঢাকা জেলা গত ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে স্ব-উদ্যোগে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে। বর্তমানে পিবিআইয়ের এসআই (নিঃ) মোঃ মাহবুব হোসেন মামলাটি তদন্ত করছেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, পূর্বে গ্রেপ্তারকৃত আসামি মোঃ শাহ জালাল সরকারকে রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৮ জুন ২০২৬ তারিখ রাত সোয়া ১টার দিকে আশুলিয়ার মধুপুর এলাকা থেকে ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত অন্যতম মূল আসামি মোঃ সাইফুল ইসলাম (৪০)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। পরে ওই দিনই আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে, আসামি মোঃ শাহ জালাল সরকার ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় বিজ্ঞ বিচারকের কাছে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে লোমহর্ষক জবানবন্দি প্রদান করেন।
পিবিআই-এর তদন্ত ও আসামির জবানবন্দি পর্যালোচনা করে জানা যায়, মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে আসামিদের সাথে ভিকটিম জনির দীর্ঘদিনের বিরোধ ও ক্ষোভ ছিল। এরই জেরে আসামিরা জনিকে হত্যার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করে। ঘটনার দিন আশুলিয়ার মধুপুর এলাকায় জনি তার বন্ধু সোহাগ ও রানার সঙ্গে মাদক সেবন ও বিক্রয় করছিল। এ সময় শাহ জালাল সরকার, সাইফুল ইসলামসহ অন্যান্য আসামিরা দেশীয় লাঠিসোটা নিয়ে আচমকা হামলা চালিয়ে জনিকে আটকে এলোপাতাড়ি মারধর করে হত্যা করে। পরে হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ ও আলামত গোপনের উদ্দেশ্যে তারা নাজমুল হোসেনের পুকুরে জনির লাশ ফেলে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পিবিআই ঢাকা জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেড় বছর আগের এই ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটিত হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত বাকি অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য জোর চেষ্টা চলছে এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।ছবি সংগৃহীত।


