মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৫৩তম প্রয়াণ দিবস আজ

মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৫৩তম প্রয়াণ দিবস আজ

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

বাংলা সাহিত্যের যুগপ্রবর্তক মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৫৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ । ১৮৭৩ সালের এই চিরস্মরণীয় দিনে কলকাতার আলিপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মহৎ এই কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনে মহাকবির জন্মভূমি যশোরের কেশবপুরের সাগরদাঁড়িতে আজ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি ঐতিহ্যবাহী কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মধুসূদন দত্ত। তাঁর পিতা ছিলেন জমিদার রাজনারায়ন দত্ত এবং মাতা জাহ্নবী দেবী। পরবর্তীতে ১৮৫৩ সালে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে তিনি খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকেই তাঁর নামের সঙ্গে ‘মাইকেল’ শব্দটি যুক্ত হয়।

বাংলা সাহিত্যকে আধুনিকতার চূড়ায় নিয়ে যেতে তিনি ‘পদ্মাবতী’ নাটক, ‘একেই বলে সভ্যতা’ ও ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’ নামের দুটি যুগান্তকারী প্রহসন রচনা করেন। এছাড়াও তাঁর অমর সৃষ্টির মধ্যে রয়েছে ‘মেঘনাদবধ কাব্য’, ‘ব্রজাঙ্গনাকাব্য’, ‘কৃষ্ণকুমারী’ নাটক, ‘বীরাঙ্গনা কাব্য’ ও ‘চতুর্দশপদী কবিতাবলী’ (সনেট)। বাংলা সাহিত্যে গাম্ভীর্যপূর্ণ ও ছন্দোময় অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তকও তিনি।

এদিকে, মহাকবির ১৫৩তম মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণীয় করে রাখতে সাগরদাঁড়িতে আজ ‘মধুসূদন একাডেমি’র উদ্যোগে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—সকালে মহাকবির আবক্ষ মূর্তিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, কবির কালজয়ী সাহিত্যকর্ম ও বর্ণিল জীবনীভিত্তিক আলোচনা সভা, মধুসূদনের অমর কবিতা থেকে আবৃত্তি ও নিবেদিত কবিতা পাঠ, মধুগীতি পরিবেশন এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে ‘ড. সুকুমার রায় স্মৃতিবৃত্তি’ প্রদান।

সাগরদাঁড়ির মধুসূদন একাডেমির পরিচালক, বিশিষ্ট কবি ও গবেষক খন্দকার খসরু পারভেজ সংবাদ মাধ্যমকে জানান, আজ একাডেমির চত্বরে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) বাংলা বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. তানভীর দুলাল।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন মধুসূদন একাডেমির চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট কবি ও গীতিকার কাসেদুজ্জামান সেলিম। এছাড়াও কবির প্রয়াণ দিবসের এই আয়োজনে দেশবরেণ্য কবি, সাহিত্যিক ও গবেষকরা আবৃত্তি ও স্মৃতিচারণমূলক আলোচনায় অংশ গ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *