ভ্যানচালক থেকে চাকরি সিন্ডিকেটের হোতা ! কামরুলের হাতে প্রতারিত শত শত বেকার

ভ্যানচালক থেকে চাকরি সিন্ডিকেটের হোতা ! কামরুলের হাতে প্রতারিত শত শত বেকার

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

যশোরে অপহরণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক এক ব্যক্তিকে ঘিরে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার একটি চক্রের তথ্য সামনে এসেছে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এ চক্রের মূলহোতা হিসেবে কামরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। তবে তিনি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন।

গত ৬ মে কোতোয়ালি থানা-পুলিশ যশোর শহরের বারান্দী মোল্লাপাড়ার জাকির হোসেন, তফসিডাঙ্গা গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন এবং নাজির শংকরপুর এলাকার মারুফ হোসেন সুমনকে আটক করে। তাঁদের বিরুদ্ধে এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে ভয়ভীতি দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়,আটক মারুফ সুমন কথিত চাকরি সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্য। চক্রটির নেতৃত্ব দেন শহরতলীর নুরপুর গ্রামের মোদাচ্ছের হোসেনের ছেলে কামরুল ইসলাম। তাঁদের বিরুদ্ধে বিশেষ বাহিনী, পুলিশ ও বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, কয়েক বছর আগেও কামরুল ইসলাম ভ্যানে করে বেকারির পণ্য বিক্রি করতেন। পরে বিভিন্ন বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচয় আছে বলে প্রচার চালিয়ে চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ নেওয়া শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি একটি সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে তোলেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চক্রের সদস্যরা কমিশনের ভিত্তিতে চাকরিপ্রার্থীদের সংগ্রহ করে কামরুল ইসলামের কাছে নিয়ে যেতেন। এরপর চাকরির নিশ্চয়তা দিয়ে লাখ লাখ টাকা নেওয়া হতো। টাকা নেওয়ার পর বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হতো।

কেশবপুরের পলাশ, নড়াইলের আমিনুর রহমান ও কুষ্টিয়ার রুবেলসহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, তাঁদের কাছ থেকে চাকরির নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ নেওয়া হয়েছে।

এ ধরনের অভিযোগে আগেও মামলা হয়েছে। গত বছরের ৫ এপ্রিল কেশবপুরের মজিদপুর এলাকার শ্যামল দাস চাকরির নামে ১৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মণিরামপুর থানায় মামলা করেন। পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ওই মামলায় কামরুল ইসলামকে আটক করে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘তদন্তে জানা গেছে, চাকরি দেওয়ার নামে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ব্ল্যাংক চেক ও নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প নেওয়া হতো। পরে সেগুলো ব্যবহার করে ভয়ভীতি ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।’ তদন্তে মনা ওরফে মনির, খসরু ও বসিরসহ আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।

স্থানীয়দের দাবি, সরকার পরিবর্তনের পর কামরুল ইসলাম ঝিনাইদহের বারোবাজার এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছেন। সেখান থেকে তিনি চক্রের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা পুরো চক্রকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *