শহিদ জয়,
যশোরের গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন,কৃষিপণ্য পরিবহন ও বাজারজাতকরণ সহজতর করতে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন হলো। আজ শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বাস্তবায়িত ওয়েস্টার্ন ইকনোমিক করিডোর অ্যান্ড রিজিওনাল এনহ্যান্সমেন্ট প্রোগ্রাম (উইকেয়ার) ফেজ-১-এর আওতায় নির্মিত ‘চুড়ামনকাঠি জিসি-কায়েমকোলা জিসি ভায়া বাগডাঙ্গা, ঝাউদিয়া বাজার ও চান্দুটিয়া’ সড়কের বর্ণাঢ্য উদ্বোধন করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফিতা কেটে সড়কটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ আশেক হাসান, জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন এবং এলজিইডি যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ মাহবুবুর রহমান। এছাড়াও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে বিএনপি নেতা গোলাম রেজা দুদু, সহ যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী এবং স্থানীয় জনসাধারণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এলজিইডি যশোর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১১ দশমিক ৩৭৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির মোট নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা। প্রকল্পটি ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে গত ৩০ জুন (২০২৬) শেষ হওয়ার কথা ছিল। বর্তমানে এই প্রকল্পের ভৌত কাজ ৯৮ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৯৪ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।
সড়কটির স্থায়িত্ব ও সৌন্দর্য বর্ধনে ব্যাপক কারিগরি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— সড়কটির বিভিন্ন অংশে ৫৮০ মিটার আরসিসি ঢালাই রাস্তা নির্মাণ, একটি ১৫ মিটার দীর্ঘ আরসিসি গার্ডার সেতু, একটি ২x২ মিটার আয়তনের বক্স কালভার্ট এবং সাতটি ১x১ মিটারের বক্স কালভার্ট নির্মাণ। এছাড়া ভূমির ক্ষয় রোধে ১ হাজার ৫৬ মিটার প্রতিরক্ষামূলক কাজ, পথচারীদের জন্য ৯৬০ মিটার ড্রেন ও ফুটপাত নির্মাণ এবং ২৬ হাজার ৭০০টি সিসি ব্লক স্থাপন করা হয়েছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সড়কের দুই পাশে ৪ হাজার ৫০০টি গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে।
আয়োজক ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন এই উইকেয়ার প্রকল্পের মূল লক্ষ্যই হলো— গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করে কৃষকের উৎপাদিত পণ্য দ্রুত ও কম খরচে পরিবহন এবং বাজারজাতকরণ সহজ করা। এছাড়া এই প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় গ্রামীণ বাজার ও গ্রোথ সেন্টারগুলোকে জাতীয় মহাসড়কের সাথে সরাসরি যুক্ত করা হচ্ছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, পদ্মা সেতু চালুর পর দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যে বিশাল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তা শতভাগ কাজে লাগাতে এই সড়কটি একটি ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে কাজ করবে। এর ফলে পরিবহন খরচ ও কৃষকের উৎপাদন ব্যয় যেমন কমবে, তেমনি পণ্য দ্রুত বাজারে পৌঁছানোর ফলে স্থানীয় পর্যায়ের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। ছবি সংগৃহীত।

