পঞ্চম উপাচার্য হিসেবে যোগ দিলেন অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর

পঞ্চম উপাচার্য হিসেবে যোগ দিলেন অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর

স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) পঞ্চম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকিউলার বায়োলজি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর। বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজ কার্যালয়ে যোগদানপত্রে স্বাক্ষরের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

এর আগে গত ১৩ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মো. শাহ আলম সিরাজ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগের বিষয়টি জানানো হয়।
দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে সকাল ৯টায় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান এবং দোয়া-মোনাজাতে অংশ নেন। পরে ১৯৫২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সকল বীর শহীদদের স্মরণে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
যোগদানের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটি নিম গাছের চারা রোপণ করেন। এরপর বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, দপ্তরপ্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে মতবিনিময় করেন।
মতবিনিময় সভায় নবনিযুক্ত উপাচার্য বলেন, যবিপ্রবি ইতোমধ্যে শিক্ষা ও গবেষণায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এ ধারা আরও বেগবান করতে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি গবেষণালব্ধ জ্ঞান জাতির কল্যাণে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি সহপাঠ্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি একটি ন্যায্য, মানবিক ও সহযোগিতাপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকিউলার বায়োলজি বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে জাপানের তোহোকু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ১৯৮৪ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। এছাড়া কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ে সহযোগী অধ্যাপক এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
খ্যাতিমান এই বিজ্ঞানী জাপান ও জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশে পোস্ট-ডক্টরাল গবেষণা ও ভিজিটিং সায়েন্টিস্ট হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁর ১৪০টিরও বেশি গবেষণা প্রবন্ধ ও ২৩টি বুক চ্যাপ্টার আন্তর্জাতিক সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বিশ্ব একাডেমি অব সায়েন্সেস ও বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেসের ফেলো এবং শিক্ষা ও গবেষণায় অবদানের জন্য দেশ-বিদেশে বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর ১৯৫৮ সালের ৮ জানুয়ারি কিশোরগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ছবি-সংগৃহীত

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *