ধর্ষণের শিকার প্রতিবন্ধী তরুণীর কোলজুড়ে নবজাতক

ধর্ষণের শিকার প্রতিবন্ধী তরুণীর কোলজুড়ে নবজাতক

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা-এর পল্লী এলাকায় বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধী এক তরুণী (২১) ধর্ষণের শিকার হয়ে পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত১৮ মার্চ নাভারণ পল্লী ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশুটির জন্ম হয়।

এ ঘটনায় গত সোমবার (১২ মে) স্থানীয় এক কবিরাজের বিরুদ্ধে ঝিকরগাছা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০-এর ৯(১) ধারায় রুজু হয় (মামলা নং-২১, তাং ১৩/০৫/২০২৬)।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিবন্ধী তরুণী বর্তমানে তার নবজাতক সন্তানকে নিয়ে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন। শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধকতার কারণে তিনি সন্তানকে কোলে নিতে কিংবা স্বাভাবিকভাবে যত্ন নিতে পারছেন না বলে জানান পরিবারের সদস্যরা। শিশুটিকে খাওয়ানোসহ দৈনন্দিন পরিচর্যায় অন্যদের সহযোগিতা প্রয়োজন হচ্ছে।
ভুক্তভোগীর মা অভিযোগ করে বলেন,স্থানীয় কবিরাজ ও প্রতিবেশী আব্দুর রহমান (৬০) তার প্রতিবন্ধী মেয়েকে পান খাওয়ানো ও টাকার লোভ দেখিয়ে কবিরাজির ঘরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী,মেয়েটি বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হওয়ায় সঠিকভাবে কথা বলতে পারে না এবং বিষয়টি কাউকে জানাতে সক্ষম হয়নি।
তিনি আরও বলেন,গত অক্টোবর মাসে মেয়ের শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। পরীক্ষায় গর্ভধারণের বিষয়টি ধরা পড়ে। পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়ভাবে সালিশের চেষ্টা হলেও কোনো সমাধান হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযোগ অনুযায়ী,অভিযুক্তের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় প্রথমে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পরবর্তীতে গত ১৯ মার্চ প্রসব বেদনা শুরু হলে নাভারণ পল্লী ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে শিশুটির জন্ম হয়।
এদিকে অভিযুক্ত আব্দুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তিনি ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে ঘটনার সঠিক তদন্তের দাবি জানান। তার স্ত্রীও অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “পাগলের কথা বিশ্বাস করা যায় না।”
অন্যদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,আব্দুর রহমান প্রায় ১৫ বছর আগে খুলনা থেকে ঝিকরগাছায় বসতি স্থাপন করেন। তার পরিবার বর্তমানে এলাকায় বসবাস করছে।
ঝিকরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজালাল আলম সাংবাদিকদের বলেছেন, মামলার পরপরই পুলিশ আসামিকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান শুরু করেছে। আসামি আত্মগোপনে রয়েছে। দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *