স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
তিন গুণ বেতন-ভাতা বৃদ্ধি এবং বিভাগীয় কর্মচারী হিসেবে স্বীকৃতির দুই দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে যশোরে এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ডাক বিভাগের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আজ শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে যশোর প্রেসক্লাবের সামনে ‘বাংলাদেশ ডাক কর্মচারী ইউনিয়ন (রেজি নং: বি-২০৩১)’, ‘বাংলাদেশ শাখা ডাকঘর কর্মচারী সমিতি’ এবং ‘বাংলাদেশ শাখা ডাকঘর কর্মচারী ঐক্য পরিষদ’-এর যৌথ ব্যানারে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
শনিবার দুপুরের তীব্র রোদ উপেক্ষা করে মো. নজরুল ইসলামের সুসংগঠিত নেতৃত্বে জেলার শত শত ডাক কর্মচারী এই মানববন্ধনে অংশ নেন। মানববন্ধন চলাকালে দাবি আদায়ের সপক্ষে বিভিন্ন ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে স্লোগান দেন কর্মচারীরা।
সমাবেশে বাংলাদেশ ডাক কর্মচারী ইউনিয়নের যশোর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আকাশ, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক রোজিনা এবং জেলার আটটি উপজেলার সভাপতি ও প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন। বক্তব্য প্রদানকারীদের মধ্যে ছিলেন— ঝিকরগাছা উপজেলা সভাপতি আলম, শার্শা উপজেলা সভাপতি মো. আলী, কেশবপুর উপজেলা সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, মনিরামপুর উপজেলা সভাপতি বাবলু, বাঘারপাড়া উপজেলা সভাপতি আব্দুর রব, চৌগাছা উপজেলা সভাপতি মো. সুলতান এবং অভয়নগর উপজেলার প্রতিনিধি আলামিন।
মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে আমাদের বর্তমান বেতন-ভাতা মোটেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। দীর্ঘদিন ধরে আমরা ডাক বিভাগের কর্মচারীদের তিন গুণ বেতন-ভাতা বৃদ্ধি এবং পূর্ণাঙ্গ বিভাগীয় কর্মচারী হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু দুঃখের বিষয়, বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও আমাদের এই দীর্ঘদিনের ন্যায্য ও মানবিক দুই দফা দাবি এখনো বাস্তবায়ন করা হয়নি।” বক্তারা অবিলম্বে কর্মচারীদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই দাবি মেনে নেওয়ার জোর আহ্বান জানান।
মানববন্ধন থেকে ডাক বিভাগের সেবা সচল রাখা ও অচলাবস্থা নিরসনে সরকারকে আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে। আন্দোলনরত কর্মচারীরা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আমাদের এই যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নে অবিলম্বে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করে, তবে আগামী ৬ জুলাই (সোমবার) থেকে দেশের প্রতিটি অঞ্চলের সকল পোস্ট অফিসে অনির্দিষ্টকালের জন্য পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতি পালন করা হবে।”
৬ জুলাই থেকে কর্মবিরতি শুরু হলে দেশের চিঠিপত্র আদান-প্রদান, পার্সেল এবং ডাক বিভাগের আর্থিক লেনদেনসহ সকল সেবা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গ্রাহক ভোগান্তি চরমে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর দায় সম্পূর্ণ কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে বলে সমাবেশ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়। ছবি সংগৃহীত।

