স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর শহরের খোলাডাঙ্গা এলাকায় পূর্ব শত্রুতা ও পারিবারিক বিরোধের জের ধরে ইয়াসিন ইসলাম ওহি (১৬) নামে এক কিশোরকে প্রকাশ্য দিবালোকে রাস্তা থেকে অপহরণ করে নিয়ে একটি ঘরের ভেতর আটকে রেখে হাত-পা বেঁধে অমানুষিক মারধর ও বৈদ্যুতিক শক দিয়ে বর্বরোচিত নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একদল দুর্বৃত্তের বিরুদ্ধে। গতকাল বুধবার (১৭ জুন) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে শহরের গির্জাতলা এলাকায় এই নৃশংস অপহরণ ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। রক্তাক্ত ও অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ওই কিশোর বর্তমানে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আহত ইয়াসিন ইসলাম ওহি কোতোয়ালি মডেল থানার ধর্মতলা খোলাডাঙ্গা গাজীপাডড় এলাকার ইউনুছ আলীর ছেলে।
আহত কিশোরের পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার দুপুরে ওহি শহরের গির্জাতলা এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা একই এলাকার চিহ্নিত দুই যুবক মেহেদী (২৪) ও শাওন (২২) সহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২-৩ জন দুর্বৃত্ত ওহির মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক অপহরণ করে একটি নির্জন বাড়ির রুদ্ধদ্বার কক্ষে নিয়ে যায়। সেখানে ঘরের দরজা বন্ধ করে দিয়ে ওহিকে প্রথমে রড ও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর নীলফোলা জখম করা হয়। একপর্যায়ে নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়ে দুর্বৃত্তরা ওহির শরীরে সচল বৈদ্যুতিক তারের স্পর্শ ঘটিয়ে কয়েক দফায় মারাত্মক বৈদ্যুতিক শক দেয়। এতে ওহি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে হামলাকারীরা তাকে ফেলে রেখে বাইরে থেকে দরজা লক করে দ্রুত পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগীর স্বজনরা জানান, মূলত ওহির আপন খালু শাকিলের সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি বাচ্চু ওরফে রড বাচ্চুর দীর্ঘদিনের তীব্র ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক বিরোধ চলে আসছিল। সেই পারিবারিক ও স্থানীয় বিরোধের জের ধরে ওহির খালুকে না পেয়ে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে ১৬ বছরের নিরীহ কিশোর ওহির ওপর এই বর্বরোচিত ও অমানুষিক প্রতিশোধ নেওয়া হয়েছে বলে ওহির পরিবারের সদস্যরা দৃঢ়ভাবে ধারণা করছেন।
পরবর্তীতে ঘটনার বেশ কিছু সময় পর খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে পরিবারের লোকজন গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ওই অবরুদ্ধ বাড়ি থেকে অজ্ঞান ও রক্তাক্ত অবস্থায় ওহিকে উদ্ধার করেন। তাকে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তার ক্ষতস্থান পরীক্ষা ও জরুরি চিকিৎসা শেষে ওহির শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে হাসপাতালের পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করেন।
হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কিশোর ওহির শরীরে বৈদ্যুতিক শকের কারণে সৃষ্ট পোড়া ক্ষত এবং লাঠির আঘাতের গভীর চিহ্ন রয়েছে। তবে বর্তমানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার পর সে সম্পূর্ণ আশঙ্কামুক্ত অবস্থায় রয়েছে। এদিকে, দিনের আলোয় একজন কিশোরের ওপর এমন পৈশাচিক ও মধ্যযুগীয় কায়দায় বৈদ্যুতিক শক দিয়ে নির্যাতনের ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে। এ ঘটনায় জড়িত মূল হোতা মেহেদী ও শাওনসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি নিয়মিত অপহরণ ও গুরুতর নির্যাতন মামলা দায়েরের আইনি প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে চলছে বলে ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

