স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর শহরের চাঁচড়া ডালমিল এলাকার একটি বেসরকারি নার্সিং ইনস্টিটিউটে ভেন্টিলেটর ও গুদামের তালা ভেঙে প্রায় ১২ লাখ টাকার মালামাল চুরির চাঞ্চল্যকর ঘটনায় শহিদ শেখ (২২) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। গত শনিবার (২০ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে চাঁচড়া ডালমিল পীর সাহেবের গলির একটি ভাড়াবাড়ি থেকে তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়। আজ ২১ জুন ২০২৬ রোববার দুপুরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আসামিকে যশোর আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।গ্রেফতারকৃত শহিদ শেখ ওই এলাকার ইদ্রিসের বাড়ির ভাড়াটিয়া শফিকুল শেখের ছেলে।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ ও মিরপুর ইনস্টিটিউট অব নার্সিং সাইন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারি সেন্টার কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ এপ্রিল বিকেল ৫টা থেকে ১৯ এপ্রিল সকাল পৌনে ৯টার মধ্যে যেকোনো সময় অজ্ঞাতনামা একদল সংঘবদ্ধ চোরচক্র ওই প্রতিষ্ঠানের নিচতলার দুটি গুদাম এবং তৃতীয় তলার ভেন্টিলেটর ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। চোরেরা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১২ লাখ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মূল্যবান মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়।
প্রতিষ্ঠান সূত্রে চুরি হওয়া মালামালের তালিকায় রয়েছে— ২৫টি নামী ব্র্যান্ডের কম্পিউটারের সিপিইউ (CPU), ০১টি ল্যাপটপ, ০১টি এয়ার কন্ডিশনার (এসি), ০১টি আইপিএস (IPS), ০৩টি সিসি ক্যামেরা, ০১টি সিসিটিভির ডিভিআর (DVR) মেশিন, ফ্রিজের ভেতরের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, ১৮টি সিলিং ফ্যান, বিভিন্ন সাইজের দামি থাই অ্যালুমিনিয়াম এবং ল্যাবের অন্যান্য ইলেকট্রনিক সামগ্রী।
চুরির এই ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান বাদী হয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি নিয়মিত চুরি মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্তভার পান কোতোয়ালি থানার এসআই রাইসুল ইসলাম।
মামলাটির তদন্ত চলাকালেই গত ১৯ জুন রাতে ওই একই প্রতিষ্ঠানের ভবনের ভেন্টিলেটর ভেঙে আবারও সিলিং ফ্যান চুরির ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থলের পারিপার্শ্বিক তথ্য-প্রমাণ ও সোর্স নিয়োগ করে নিশ্চিত হয় যে, এই চুরির নেপথ্যে স্থানীয় যুবক শহিদ শেখ সরাসরি জড়িত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার মধ্যরাতে এসআই রাইসুলের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস টিম পীর সাহেবের গলিতে অভিযান চালিয়ে শহিদকে অবরুদ্ধ ও আটক করে।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুম খান চুরির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, “আটককৃত শহিদ শেখ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নার্সিং ইনস্টিটিউটের মালামাল চুরির ঘটনায় নিজের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে। আজ রোববার (২১ জুন) দুপুরে তাকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।” চুরির বাকি মালামাল উদ্ধার এবং এই চক্রের সাথে জড়িত অন্য সহযোগীদের সনাক্ত করে গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান ওসি। ফাইল ছবি সংগৃহীত।


