স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের সীমান্ত শহর বেনাপোল পৌর কৃষক দলের সভাপতি জসীম উদ্দীনকে লাঞ্ছিত ও মারাত্মক শারীরিক নির্যাতন করার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। গত ৭ জুলাই সংঘটিত এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেনাপোলের স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে এখনো তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহলের একাংশের আশঙ্কা, উদ্ভূত রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা না হলে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটে যেতে পারে।
রাজনৈতিক মহলে ছড়িয়ে পড়া ও উত্থাপিত অভিযোগে বলা হয়েছে, শার্শা থানা ছাত্রদলের বর্তমান আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম চয়নের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে এবং কিছু উগ্রপন্থী যুবকদের সহযোগিতায় এই অতর্কিত হামলার ঘটনাটি ঘটানো হয়। হামলায় বেনাপোল পৌর কৃষক দলের সভাপতি জসীম উদ্দীন শারীরিকভাবে মারাত্মক লাঞ্ছিত ও আহত হওয়ার পাশাপাশি মানসিকভাবেও চরম হেনস্থার শিকার ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে তাঁর অনুসারী ও দাবিদাররা জোরালো অভিযোগ করেছেন।
এ ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করায় দলের সাধারণ নেতাকর্মীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগী ও দলীয় কর্মীদের পক্ষ থেকে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পেছনে প্রকৃত কারণ কী, তা উদ্ঘাটনে একটি সুষ্ঠু, সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও দ্রুত সাংগঠনিক তদন্ত কমিটি গঠনের জোর দাবি জানানো হয়েছে। একই সাথে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে, জড়িতদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর দলীয় শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা এবং একই সাথে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং দলের অভ্যন্তরীণ চেইন অব কমান্ড বজায় রাখতে এ বিষয়ে যশোর জেলা ছাত্রদল ও জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ, বিশেষ করে জেলা বিএনপির শীর্ষ ও নীতি-নির্ধারক নেতাদের জরুরি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অভিযোগকারী ও তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
তবে এই স্পর্শকাতর রাজনৈতিক মারধরের ঘটনার পর বেশ কয়েকদিন অতিবাহিত হলেও রহস্যজনক কারণে এখন পর্যন্ত স্থানীয় শার্শা বা বেনাপোল পোর্ট থানায় কোনো পক্ষ থেকেই লিখিত কোনো অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি বলে পুলিশ ও নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। দলীয় ফোরামে মীমাংসার চেষ্টা চলায় আইনি পদক্ষেপ পিছিয়ে যাচ্ছে বলে ধারণা করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ছবি সংগৃহীত।

