অসহায় শিক্ষার্থীদের স্বাবলম্বী করার নানামুখী প্রয়াস

অসহায় শিক্ষার্থীদের স্বাবলম্বী করার নানামুখী প্রয়াস

বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, কলাপাড়া:

শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি পড়ালেখার খরচ জোগাতে ও বিকল্প আয়ের পথ তৈরি করার লক্ষ্যে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় শতাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে বিনামূল্যে কবুতরের বাচ্চা, ফলজ-বনজ গাছের চারা এবং উন্নত মানের শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ব্র্যাক’-এর মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচির উদ্যোগে উপজেলার হাজিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এসব সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

আয়োজকেরা জানান, শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার প্রতি মনোযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি তাঁদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী ও পরিবেশ সচেতন করে তুলতে এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে মোট ১০০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ৩০ জন অসচ্ছল শিক্ষার্থীকে বিকল্প আয়ের মাধ্যম হিসেবে ৬টি করে কবুতরের বাচ্চা, ৫০ জন শিক্ষার্থীকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও পুষ্টির চাহিদা মেটাতে ১টি করে উন্নত জাতের ফলজ ও বনজ গাছের চারা এবং ২০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষা উপকরণ হিসেবে ১টি করে স্কুল ব্যাগ, খাতা ও কলম বিতরণ করা হয়।

সামগ্রী বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন ব্র্যাকের সিনিয়র কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অফিসার কেএম মশিউর রহমান, ব্র্যাকের স্মার্ট স্টুডেন্ট ফাইন্যান্স প্রোগ্রামের এলাকা ব্যবস্থাপক মো. আসাদুজ্জামান এবং হাজিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শাহজালাল মুন্সী।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ব্র্যাকের এই বিশেষ প্রকল্পের আওতায় বর্তমানে কলাপাড়া উপজেলার মোট ১৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬৪১ জন শিক্ষার্থীকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আধুনিক পদ্ধতিতে ইংরেজি ভাষা শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। ইংরেজি শিক্ষার পাশাপাশি গ্রামীণ অঞ্চলের অসহায় ও পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ করতে এবং তাঁদের নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর শক্তি জোগাতে ব্র্যাকের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতেও এই ধরনের আর্থিক ও সামাজিক সহায়তা প্রদান অব্যাহত থাকবে বলে তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পড়ালেখার পাশাপাশি বাড়িতে বসে কবুতর পালন ও ফলদ গাছ রোপণের সুযোগ পেয়ে আনন্দিত ও উদ্বুদ্ধ হয়েছেন হাজিপুর স্কুলের শিক্ষার্থীরা। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *