অবশেষে চাকরিচ্যুত হলেন সেই বিতর্কিত মাদ্রাসা সুপার

অবশেষে চাকরিচ্যুত হলেন সেই বিতর্কিত মাদ্রাসা সুপার

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

ডকুমেন্ট ও নথিপত্রসহ উত্থাপিত বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় যশোরের কেশবপুর উপজেলার গড়ভাঙ্গা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সাময়িক বরখাস্তকৃত সুপারিনটেনডেন্ট (সুপার) মো. রিজাউল ইসলামের চাকরি থেকে চূড়ান্ত বরখাস্তের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড। বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত গত ২৪ জুন (২০২৬) জারিকৃত এক অফিসিয়াল আদেশে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

বোর্ড ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি সূত্রে জানা গেছে, সুপার মো. রিজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের টিউশন ফিসহ বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ খাতের লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ এবং এলাকার সাধারণ মানুষদের মাদ্রাসায় চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট ও তথ্যভিত্তিক লিখিত অভিযোগ ওঠে।

পরবর্তীতে এসব আর্থিক জালিয়াতি ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে আনীত প্রধান ৬টি গুরুতর অভিযোগের সত্যতা অকাট্য ডকুমেন্টসহ প্রমাণিত হয়। এরই প্রেক্ষিতে গত ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির (গভর্নিং বডি) এক জরুরি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তাকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির চূড়ান্ত বরখাস্তের সেই সিদ্ধান্তটি বিধি মোতাবেক চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে পাঠানো হয়। বোর্ডের আপিল ও সালিশ কমিটি রিজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রমাণ হওয়া নথিপত্র ও অভিযোগগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে। পর্যালোচনা শেষে কমিটির সকল সদস্যের সর্বসম্মতিক্রমে বরখাস্তের আবেদনটি অনুমোদন দেয় বোর্ড।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সর্বশেষ আদেশে, বরখাস্তের এই সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে কার্যকর করাসহ সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের এই বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই আদেশের কপি হাতে পাওয়ার পর গড়ভাঙ্গা মাদ্রাসা ও স্থানীয় সচেতন মহলের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *