স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) পৃথক দুটি আভিযানিক দল জেলার বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে সর্বমোট ২,১০৫ (দুই হাজার একশত পাঁচ) পিস অবৈধ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুই মাদক কারবারিকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে। আজ সোমবার (৮ জুন ২০২৬) দুপুর ও বিকেলে পৃথক দুটি থানা এলাকায় এই অভিযানগুলো পরিচালিত হয়। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানাদ্বয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আজ সোমবার দুপুর ১২:০০ ঘটিকার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক জনাব নাজমুল হোসেন খানের নেতৃত্বে একটি চৌকস দল যশোর জেলার মণিরামপুর থানাধীন রোহিতা ইউনিয়নের বাসুদেবপুর বাজারে অভিযান চালায়। বাজার সংলগ্ন আমতলা মোড়স্থ মো. আতিয়ার রহমানের মুদি দোকানের উত্তর পাশে পাকা রাস্তার ওপর এক নারীর গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে নারী ফোর্সের সহায়তায় তাঁকে তল্লাশি করা হয়।
এ সময় তাঁর হেফাজত থেকে সর্বমোট ২,০০০ (দুই হাজার) পিস অবৈধ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত ওই নারী মাদক কারবারির নাম মোছাঃ হামিদা খাতুন (৪২)। তিনি যশোর জেলার শার্শা উপজেলার দক্ষিণ বুরুজবাগান (নাভারণ ইউনিয়ন) গ্রামের মৃত কামাল হোসেনের স্ত্রী। এই ঘটনায় পরিদর্শক জনাব নাজমুল হোসেন খান বাদী হয়ে মণিরামপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন।
অপর এক অভিযানে আজ বিকেল ০৫:০০ ঘটিকার সময় যশোর কোতয়ালী মডেল থানাধীন ১১ নং রামনগর ইউনিয়নের রাজারহাট এলাকায় অভিযান চালায় ডিএনসি-র আরেকটি দল। উপ-পরিদর্শক জনাব মদন মোহন সাহার নেতৃত্বে আভিযানিক দলটি রাজারহাট এলাকাস্থ ‘মা ভাগ্যকুল মিষ্টান্ন ভাণ্ডার’-এর সামনে যশোর টু খুলনা মহাসড়কের উত্তর পাশে পাকা রাস্তার ওপর বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন করে।
এ সময় সন্দেহভাজন এক যুবককে তল্লাশি করে তাঁর নিকট থেকে ১০৫ (একশত পাঁচ) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত যুবকের নাম তৌফিক রহমান (২৯)। তিনি যশোর কোতয়ালী মডেল থানার চাউলিয়া (নরেন্দ্রপুর ইউনিয়ন) গ্রামের মৃত মোস্তাফিজুর রহমানের ছেলে। এই ঘটনায় উপ-পরিদর্শক জনাব মদন মোহন সাহা বাদী হয়ে কোতয়ালী মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আরেকটি পৃথক মামলা দায়ের করেন।
যশোর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে মাদক কেনাবেচা ও সরবরাহের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। জেলাকে মাদকমুক্ত করতে এবং মাদকের এই সিন্ডিকেট পুরোপুরি উপড়ে ফেলতে ডিএনসি-র এমন জিরো টলারেন্স অভিযান ও কঠোর নজরদারি আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। ছবি সংগৃহীত।

