হীরা খাতুনের অভিযোগের নেপথ্যে ভিন্ন গল্প !

হীরা খাতুনের অভিযোগের নেপথ্যে ভিন্ন গল্প !

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত গাড়ি অবৈধভাবে আটকে রাখার যে অভিযোগ হীরা খাতুন তুলেছেন, তাকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন ও বানোয়াট’ বলে দাবি করেছে যশোর জেলা পুলিশ। মঙ্গলবার (১২ মে) এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানান, গাড়িটি কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে নেওয়া হয়নি, বরং পরিত্যক্ত অবস্থায় রাস্তা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, গত ২৭ মার্চ রাতে কোতোয়ালি থানার বিপরীতে একটি পোশাকের শোরুমের সামনে একটি ‘রেড ওয়াইন’ রঙের টয়োটা সিএইচআর হাইব্রিড গাড়ি (ঢাকা মেট্রো-২১-৪১১৩) দীর্ঘক্ষণ পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে পুলিশ সেটি বেওয়ারিশ হিসেবে জব্দ করে এবং নিয়ম অনুযায়ী আদালতকে অবহিত করে।

 পুলিশ জানায়, হীরা খাতুন পরবর্তীতে গাড়ির মালিকানা দাবি করলেও এখন পর্যন্ত কোনো বৈধ নথিপত্র বা আদালতের জিম্মানামা দেখাতে পারেননি। পুলিশ তাকে আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতের মাধ্যমে গাড়িটি বুঝে নেওয়ার পরামর্শ দিলেও তিনি তা না করে ভিত্তিহীন অভিযোগ ছড়াচ্ছেন বলে ব্রিফিংয়ে দাবি করা হয়।

উল্লেখ্য, গতকাল ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে হীরা খাতুন দাবি করেছিলেন, মাগুরার এক নেতার সহযোগিতায় তিনি তার নিখোঁজ ছেলে ও গাড়িটি উদ্ধার করে যশোর কোতোয়ালি থানায় জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ এখন সেটি ফেরত দিচ্ছে না। একই সঙ্গে তিনি তার স্বামীর মৃত্যুর জন্য যশোরের একটি স্বর্ণ পাচারকারী চক্রের মানসিক নির্যাতনকে দায়ী করেন।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, হীরা খাতুন রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। তার স্বামী মো. আলী হাসানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও পুলিশ উল্লেখ করে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) রাজিবুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সাখাওয়াত হোসেন এবং কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুম খান। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *