হাসপাতালে দালালের দৌরাত্ম্য বন্ধ ও পরিচ্ছন্নতায় জিরো টলারেন্স

হাসপাতালে দালালের দৌরাত্ম্য বন্ধ ও পরিচ্ছন্নতায় জিরো টলারেন্স

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার মান আধুনিকায়ন, সাধারণ ও দরিদ্র রোগীদের শতভাগ উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ এবং হাসপাতালের সার্বিক প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখার লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চপর্যায়ের জেলা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ২০ জুন ২০২৬ শনিবার দুপুরে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের বিশেষ উদ্যোগে ও ব্যবস্থাপনায় যশোর সার্কিট হাউস মিলনায়তনে এই পর্যালোচনা ও নীতি-নির্ধারণী সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপি মনোনীত মাননীয় সংসদ সদস্য ও জেলা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সম্মানিত সভাপতি সাবিরা নাজমুল মুন্নির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক দিকনির্দেশনা প্রদান করেন যশোরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আশেক হাসান।

সার্কিট হাউসের এই বৈঠকে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তা ও দালালমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতকরণের বিষয়ে বক্তব্য রাখেন যশোরের জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) সৈয়দ রফিকুল ইসলাম। এছাড়া টেকনিক্যাল ও প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হোসাইন মোঃ শাফায়েত এবং যশোর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আবু হাসনাত মো. আহসান হাবীব।

রাজনীতি ও প্রশাসনের এই মেলবন্ধন সভায় জেলার সাধারণ মানুষের পক্ষে হাসপাতালের সংকট ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি ও প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু এবং সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের  প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকনসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই ফলপ্রসূ সভায় যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সার্বিক চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম, বহির্বিভাগ ও অন্তর্বিভাগে রোগীদের ওষুধ প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণ, অবকাঠামোগত জরুরি উন্নয়ন, ওয়ার্ডগুলোতে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের শতভাগ বায়োমেট্রিক উপস্থিতি, সরকারি ওষধের সঠিক বণ্টন, হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোর অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং অতি জরুরি বিভাগের (ইমার্জেন্সি) সেবার মান আধুনিকায়ন নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ ও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। একই সাথে ভবিষ্যতে যশোর জেলাকে একটি মডেল স্বাস্থ্য জোনে রূপান্তর করতে বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা ও সুপারিশমালা উপস্থাপন করা হয়।

সভায় উপস্থিত বক্তারা ক্ষোভ ও আন্তরিকতার সাথে বলেন, যশোর জেলার ৮টি উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর লাখ লাখ মানুষের একমাত্র ভরসাস্থল এই হাসপাতাল। তাই এর সেবার মান আরও উন্নত করতে রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সিভিল প্রশাসন ও চিকিৎসক সমাজকে সমন্বিত ও আন্তরিক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

সভার সমাপনী ও সভাপতির বক্তব্যে সংসদ সদস্য সাবিরা নাজমুল মুন্নি মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা ও চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে কড়া ভাষায় বলেন, “হাসপাতালে আসা কোনো সাধারণ মানুষ যেন অবহেলার শিকার না হন। রোগীবান্ধব, দুর্নীতিমুক্ত ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, পেশাগত জবাবদিহিতা এবং গভীর দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না।” এই সভার সিদ্ধান্তের পর থেকে যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও ওষুধ সরবরাহ লাইনে বড় ধরনের সংস্কার আসবে বলে আশা করছেন জেলাবাসী। ফাইল ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *