স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর সদর উপজেলার শেখহাটি তমালতলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে গৃহবধূ ছামিনা আক্তার ওরফে শাম্মীকে (২৮) ধারালো অস্ত্র দিয়ে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের বাবা শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে সোমবার রাতে স্বামী সুজনকে একমাত্র আসামি করে এই হত্যা মামলাটি করেন।
এদিকে, এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ও ঘাতক স্বামী সুজনের ফাঁসির দাবিতে আজ মঙ্গলবার (৯ জুন ২০২৬) বিকেল ৪টায় ‘প্রেসক্লাব যশোর’-এর সামনে এক বিশাল মানববন্ধনের ডাক দিয়েছে নিহত শাম্মীর পরিবার ও এলাকাবাসী।
কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশের একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা একটি চাকু উদ্ধার করেছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে চলমান রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল সোমবার (৮ জুন) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে শেখহাটি তমালতলার নিজ বাসায় পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী সুজন ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রী ছামিনা আক্তার শাম্মীকে ধারালো চাকু দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। অস্ত্রের নির্মম আঘাতে ঘটনাস্থলেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে শাম্মীর মৃত্যু হয়। স্ত্রীকে হত্যার পর অপরাধ ঢাকতে ও লোকচক্ষুর অন্তরালে যেতে সুজন নিজের বুকেও ছুরিকাঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
পরে স্বজন ও আশপাশের লোকজন ঘর থেকে শাম্মীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে এবং সুজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। ঘাতক সুজন বর্তমানে সেখানে পুলিশি হেফাজতে ও কড়া পাহারায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।
নিহত শাম্মীর পরিবারের সদস্যরা জানান, সুজন একজন পাষণ্ড ও পরিকল্পিত হত্যাকারী। সে ঠান্ডা মাথায় শাম্মীকে খুন করেছে। এই খুনি সুজনের যেন দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে সর্বোচ্চ শাস্তি তথা ফাঁসি কার্যকর করা হয়, সেই দাবিতেই আজ বিকেলে পুরো পরিবার ও এলাকাবাসী রাজপথে নামছেন। ছবি সংগৃহীত।

