শেখহাটি তামালতলায় গৃহবধূকে হত্যা!

শেখহাটি তামালতলায় গৃহবধূকে হত্যা!

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

যশোর শহরের শেখহাটি তামালতলা এলাকায় পারিবারিক কলহ ও নেশার টাকার জেরে ছামিনা আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধূকে ধারালো ছুরি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছেন তাঁর স্বামী সুজন। স্ত্রীকে খুনের পর অভিযুক্ত স্বামী নিজের বুকেও ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান। আজ সোমবার (৮ জুন ২০২৬) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বর্তমানে গুরুতর আহত স্বামী যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে পুলিশ পাহারায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিহত ছামিনা আক্তার যশোর সদর উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের তরফ নওয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। অভিযুক্ত সুজনের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলায়। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ছামিনা ও সুজন সম্পর্কে আপন মামাতো ভাই-বোন ছিলেন।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রায় ছয় মাস আগে ভালোবেসে পারিবারিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এই দম্পতি। বিয়ের পর তাঁরা শেখহাটি তামালতলা এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। সুজন আগে প্রবাসে (বিদেশে) কর্মরত ছিলেন। ছয় মাস আগে দেশে ফেরার পর বর্তমানে তিনি বেকার ছিলেন এবং পুনরায় বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

আজ সোমবার ভোরে বাসায় অবস্থানকালে মাদকের (নেশার) টাকা নিয়ে সুজন ও ছামিনার মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে সুজন চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ঘর থেকে ধারালো ছুরি এনে স্ত্রী ছামিনার শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। ছামিনার চিৎকারে পরিবারের অন্য সদস্যরা ছুটে এসে তাঁকে রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেন জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শাকিরুল ইসলাম।

এদিকে স্ত্রীকে মৃত ভেবে ঘাতক সুজন নিজের শরীরেও ধারালো ছুরি দিয়ে একাধিক আঘাত করে আত্মহননের চেষ্টা চালান। স্বজনরা তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে একই হাসপাতালে ভর্তি করেন।

ছামিনার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সকালের দিকে হাসপাতাল চত্বরে এক উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। নিহতের ক্ষুব্ধ স্বজনরা হাসপাতালের পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে ঢুকে চিকিৎসাধীন সুজনের ওপর পাল্টা হামলার চেষ্টা চালান। হাসপাতালের ভেতরে হট্টগোল ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে অবহিত করে। পরবর্তীতে কোতোয়ালী থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সুজনের সুরক্ষায় ওয়ার্ডে বিশেষ পাহারা বসায়। ঘটনার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সুজনের বাবা ও মাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

যশোর কোতোয়ালী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মাদক ও পারিবারিক কলহের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা উদঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম তদন্ত শুরু করেছে। এই ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান।” ফাইল ছবি।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *