স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
আদ-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসা অবহেলায় ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত-জড়িতদের শাস্তি এবং দেশে ক্রমবর্ধমান শিশু ধর্ষণের বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে সাত কর্মদিবসের মধ্যে সম্পন্ন করার দাবিতে ফুঁসে উঠেছে শিক্ষার্থীরা। যশোরে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ শেষে সংলগ্ন এলাকায় ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর ব্যানারে এক বিশাল বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীদের হাতে “আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতক শিশু মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান করে দোষীদের শাস্তি দাও”, “শিশু ধর্ষণের বিচার সাত কর্মদিবসের মধ্যে সম্পূর্ণ করতে হবে”, এবং “আছিয়া-ইরা-রামিসা বিচার ব্যবস্থার একি তামাশা”—এমন সব তীক্ষ্ণ স্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। যশোর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক রাশেদ খানের নেতৃত্বে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
প্রতিবাদ সমাবেশে ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, সম্প্রতি আদ-দ্বীন হাসপাতালে একের পর এক নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা জনমনে গভীর উদ্বেগ ও সন্দেহের সৃষ্টি করেছে। দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় জবাবদিহিতার তীব্র অভাব রয়েছে দাবি করে তাঁরা বলেন, এ ধরনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। চিকিৎসায় কোনো ধরণের অবহেলা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
একই সঙ্গে দেশে শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতনের বীভৎসতায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে আন্দোলনকারীরা বলেন, বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। তাঁরা আছিয়া, ইরা ও রামিসাসহ সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত সব শিশু নির্যাতন ও হত্যার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, একের পর এক নির্মম ঘটনা ঘটলেও বিচার প্রক্রিয়া দৃশ্যমান গতি পাচ্ছে না। এতে ভুক্তভোগী পরিবারসহ সাধারণ জনগণের মনে বিচারব্যবস্থা নিয়ে চরম হতাশা তৈরি হচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, একটি সভ্য রাষ্ট্রে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। অবিলম্বে শিশু ধর্ষণের মামলাগুলো দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের আওতায় এনে মাত্র সাত কর্মদিবসের মধ্যে রায় ঘোষণা করতে হবে। বিচার বিলম্বিত হলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং সমাজে অপরাধ প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পায়। সমাবেশ থেকে স্বাস্থ্যসেবা খাতের অব্যবস্থাপনা, শিশু নির্যাতন এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন শিক্ষার্থীরা। ছবি সংগৃহীত।

