স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে এক নিস্তব্ধ ও গভীর বেদনার ছায়া। সবাইকে কাঁদিয়ে না-ফেরার দেশে চলে গেছেন যশোর শহরের এক সুপরিচিত ও সদালাপী ব্যক্তিত্ব, বিশিষ্ট মেলা ব্যবসায়ী এবং সাবেক যুবদল নেতা সাজ্জাদ হোসেন বাবু। গতকাল সোমবার দিবাগত রাত ৩টা ১৫ মিনিটে ঢাকার ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি জীবনের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল জীবনের এক সোনালী সময়, যখন তিনি স্ত্রী, এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও শুভাকাঙ্ক্ষীকে এক বুক শূন্যতা দিয়ে বিদায় নিয়েছেন। এই প্রিয় মানুষের চলে যাওয়ার খবরে আজ সকাল থেকেই যশোরের ঘোপ এলাকার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে, চারদিকে চলছে স্বজনদের অশ্রুসজল আহাজারি। পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ মঙ্গলবার জোহরের নামাজের পর সেন্ট্রাল রোড স্টাফ কোয়ার্টার মাঠে মরহুমের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে এবং এরপরই ঘোপ কবরস্থানে পারিবারিক মর্যাদায় তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সাজ্জাদ হোসেন বাবু দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগের জটিলতায় ভুগছিলেন এবং এর আগে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁর হার্টে রিংও পরানো হয়েছিল। গত শুক্রবার হঠাৎ করে তাঁর বুকে তীব্র ব্যথা অনুভূত হলে তড়িঘড়ি করে তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় এবং দিন দিন পরিস্থিতি আরও আশঙ্কাজনক হওয়ায় গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকরা তাঁকে দ্রুত ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। মধ্যরাতে ঢাকার ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে পৌঁছানোর পর তাঁর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটলে দ্রুত হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু নিয়তির অমোঘ নিয়মে চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে এক ঘণ্টার মাথায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। মরহুমের বড় ভাই ও যুবদল নেতা শামীম হোসেন বাদল তাঁর ভাইয়ের এই অকাল ও আকস্মিক প্রয়াণে ভেঙে পড়েছেন এবং মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় দেশবাসীর কাছে পরম করুণাময়ের দরবারে দোয়া চেয়েছেন।
সাজ্জাদ হোসেন বাবুর মৃত্যুর খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই যশোর শহরের ঘোপ এলাকার বাসভবনে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই প্রিয় ব্যক্তিত্বকে শেষবারের মতো দেখতে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে তাঁর বাড়িতে ছুটে যান বীর মুক্তিযোদ্ধা রবিউল আলম, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার রবিউল ইসলাম, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মারুফ হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক সাব্বির মালিকসহ স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দ। এদিকে, একজন দক্ষ সংগঠক ও মেলার সফল উদ্যোক্তার এমন অকাল বিদায়ের খবর পেয়ে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি ঢাকা থেকে দূরভাষের মাধ্যমে মরহুমের পরিবারের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে গভীর সমবেদনা জানান এবং শোকগ্রস্ত পরিবারকে এই অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য ধৈর্য ধারণের শক্তি কামনা করেন।ছ বি সংগৃহীত।


