স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের রেলগেট ও আশপাশ এলাকার সাধারণ মানুষের নিকট মূর্তিমান আতঙ্ক হিসেবে পরিচিত, শীর্ষ ও আলোচিত সন্ত্রাসী ইমন কাজী ওরফে ‘ভাগ্নে ইমন’কে অবশেষে লোহার খাঁচায় পুরেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গতকাল বৃহস্পতিবার (২১ মে) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে (অর্থাৎ শুক্রবার ভোর রাতে) যশোর সদর উপজেলার খয়েরতলা এলাকায় এক চিরুনি অভিযান পরিচালনা করে এই দুর্ধর্ষ অপরাধীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। চাঞ্চল্যকর ও সফল এই ঝটিকা অভিযানটি পরিচালনা করে র্যাব-৬, যশোর ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল। গ্রেপ্তারকৃত দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ইমন কাজী যশোর শহরের চাঁচড়া রায়পাড়া এলাকার বাসিন্দা কাজী খালিদ হোসেনের পুত্র বলে জানা গেছে।
র্যাবের দায়িত্বশীল ও বিশেষ গোয়েন্দা সূত্র থেকে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এই কুখ্যাত সন্ত্রাসী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে যশোর শহরের বিভিন্ন এলাকায় তার অপরাধ সাম্রাজ্য ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করে আসছিল। গতকাল গভীর রাতে র্যাবের আভিযানিক দল গোপন ও সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, আসামি ইমন কাজী খয়েরতলা এলাকায় কোনো এক গোপন আস্তানায় অবস্থান করছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব সদস্যরা দ্রুত পুরো এলাকাটি কর্ডন বা অবরুদ্ধ করে ফেলেন এবং মধ্যরাতের তীব্র নাটকীয়তা শেষে তাকে অবরুদ্ধ করে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন।
এই গুরুত্বপূর্ণ ও সফল অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ নিশ্চিত করে র্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর ফজলে রাব্বী প্রিন্স সংবাদমাধ্যমকে জানান, ধৃত ইমন কাজী ওরফে ভাগ্নে ইমন একজন পেশাদার ও অত্যন্ত বিপজ্জনক অপরাধী। তার বিরুদ্ধে যশোর শহরের আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর জুম্মান হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন থানায় হত্যা, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক আইন, চাঁদাবাজি এবং মারাত্মক মাদক-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে মোট ১৭টি নিয়মিত ফৌজদারি মামলা আদালতে বিচারাধীন ও চলমান রয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা এই শীর্ষ অপরাধীকে গ্রেপ্তারের ফলে যশোরের সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ফিরবে এবং সীমান্তে বা শহরে অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে। আটককৃত আসামিকে আজ সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া ও কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্য দিয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় সোপর্দ করা হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে বলে বিগ্রেডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

