স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলের অন্যতম শীর্ষ সমালোচিত, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বহিষ্কৃত যুবদল নেতা ও জেলা যুবদলের সাবেক প্রচার সম্পাদক এস্কেন্দার আলী জনিকে রাজধানী ঢাকা থেকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরের দিকে রাজধানী ঢাকার তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় ঢাকা ও যশোর পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ঝটিকা হানা দিয়ে তাঁকে অবরুদ্ধ করতে সক্ষম হয়। গ্রেপ্তারের পরপরই কুখ্যাত ও বিতর্কিত এই বহিষ্কৃত নেতাকে কড়া পুলিশি প্রটোকল ও বিশেষ নিরাপত্তা বলয়ের মধ্য দিয়ে যশোরে নিয়ে আসার আইনি ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া চূড়ান্তভাবে শুরু হয়েছে। এই উদ্দেশ্যে যশোর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি টিম ইতোমধ্যে সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য নিশ্চিত করেছে।
মঙ্গলবার বিকেলের দিকে যশোর জেলা পুলিশের একাধিক নির্ভরযোগ্য উচ্চপদস্থ সূত্র এস্কেন্দার আলী জনিকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি গণমাধ্যমের সামনে মৌখিকভাবে শতভাগ নিশ্চিত করলেও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত দাপ্তরিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এস্কেন্দার আলী জনির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নানামুখী চাঁদাবাজি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি বিভিন্ন সময়ে নিজের উগ্র আচরণ ও অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে একাধিক তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন, যার জেরে ইতিপূর্বে দল থেকে তাঁকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়। বিশেষ করে, বহিষ্কারের পর ক্ষিপ্ত হয়ে যশোরের মূলধারার বিএনপি এবং জাতীয়তাবাদী যুবদলের বেশ কয়েকজন শীর্ষ ও সম্মানিত নেতার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কুরুচিপূর্ণ, আপত্তিকর ও কাল্পনিক অপপ্রচার ও কুৎসা রটানোর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এসব মিথ্যাচার ও সাইবার তাণ্ডবের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দলীয় অঙ্গন ছাড়িয়ে সর্বস্তরের সুধী সমাজের মাঝেও তীব্র সমালোচনা ও চরম সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হয়।
সম্প্রতি যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় ডিজিটাল ও প্রচলিত দণ্ডবিধির আওতায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন যশোর জেলা যুবদলের বর্তমান আহ্বায়ক এম তমাল আহমেদ এবং সদস্য সচিব আনছারুল হক রানা। সেই দায়েরকৃত ফৌজদারি মামলার সূত্র ধরেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ডিবির সাইবার উইং উন্নত প্রযুক্তির সহায়তায় তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে অবশেষে তাঁকে গ্রেপ্তারে সক্ষম হয়।
ছবি সংগৃহীত।


