যশোরে ২৩ লাখ টাকার স্বর্ণের বারসহ পাচারকারী আটক!

যশোরে ২৩ লাখ টাকার স্বর্ণের বারসহ পাচারকারী আটক!

শহিদ জয় :

যশোর-নড়াইল মহাসড়কের কৌশলগত নীলগঞ্জ ব্রিজ এলাকায় এক ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে আনুমানিক ২৩ লাখ ৭৪ হাজার টাকা মূল্যের একটি মূল্যবান স্বর্ণের বারসহ এক আন্তঃজেলা সোনা পাচারকারীকে হাতেনাতে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আজ সোমবার (১৩ জুলাই ২০২৬) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি)-এর একটি বিশেষ ও চৌকস টহল দল এই চোরাচালানবিরোধী সফল অভিযানটি পরিচালনা করে।

আটককৃত কুরিয়ার বা পাচারকারীর নাম মো. তাজুল ইসলাম (৩৩)। তিনি কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলার বাসন্ডা গ্রামের বাসিন্দা।

বিজিবি ও সীমান্ত নিরাপত্তা সূত্র জানায়, ঢাকা থেকে যশোর সীমান্ত রুট ব্যবহার করে বিপুল মূল্যের স্বর্ণের একটি চালান পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে পাচার করা হচ্ছে—এমন একটি অত্যন্ত গোপন ও সুনির্দিষ্ট সংবাদের ভিত্তিতে যশোর ব্যাটালিয়নের (৪৯ বিজিবি) অধিনায়কের নির্দেশনায় বিশেষ টহল দল ভোররাতে নীলগঞ্জ ব্রিজ এলাকায় অবস্থান নেয়। ভোর সাড়ে ৪টার দিকে সন্দেহভাজন হিসেবে মো. তাজুল ইসলামকে থামিয়ে তল্লাশি করা হয়। এ সময় নিখুঁত দেহ তল্লাশিকালে তার পরিহিত প্যান্টের পকেটে অত্যন্ত সুকৌশলে ও বিশেষভাবে লুকানো অবস্থায় ১১৬.৬২ গ্রাম ওজনের একটি চকচকে স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। এ সময় চোরাচালানের কাজে ব্যবহৃত তার দুটি মোবাইল ফোন এবং নগদ ২ হাজার ২০০ টাকাও জব্দ করা হয়েছে।

বিজিবি’র প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক চোরাকারবারি তাজুল ইসলাম নিজের অপরাধ স্বীকার করে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। তিনি স্বীকার করেছেন যে, তিনি আন্তর্জাতিক সোনা চোরাচালান চক্রের একজন বাহক হিসেবে ঢাকা থেকে অভিনব কায়দায় স্বর্ণের বারটি সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে যশোর হয়ে নাভারণ সীমান্ত দিয়ে চোরাপথে সোনার বারটি ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিলেন।

বিজিবি’র হিসাব অনুযায়ী, উদ্ধারকৃত নিখাদ স্বর্ণের বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ২৩ লাখ ৫৮ হাজার ৯৮৯ টাকা। এছাড়া জব্দকৃত উন্নত মানের মোবাইল ও নগদ অর্থসহ মোট উদ্ধারকৃত মালামালের সর্বমোট সিজার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৩ লাখ ৭৪ হাজার ১৮৯ টাকা। আটক পাচারকারীর বিরুদ্ধে চোরাচালান বিরোধী সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের পর তাকে আজ দুপুরে যশোর কোতোয়ালী মডেল থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

যশোর ব্যাটালিয়নের (৪৯ বিজিবি) অত্যন্ত দক্ষ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান (পিএসসি) অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, “বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে যেকোনো ধরনের স্বর্ণ, মাদক কিংবা মূল্যবান সম্পদ পাচার রোধে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে এবং চোরাচালান রুখতে সীমান্তে বিজিবি’র এমন কঠোর ও চোখকান খোলা বিশেষ অভিযান প্রতিনিয়ত অব্যাহত রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।” ছবি সংগৃহীত।

আরো পড়ুন

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *