স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর শহরের খোলাডাঙ্গা কদমতলা মোড় এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতৃত্বদানকারী ও ছাত্রনেতা রাশেদ খানের পৈত্রিক বসতবাড়িতে এক বর্বরোচিত হামলা, ভাঙচুর ও সপরিবারে প্রাণনাশের হুমকির ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ও পারিপার্শ্বিক শত্রুতার জেরে প্রতিবেশীরা একজোট হয়ে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এই কাপুরুষোচিত হামলা চালায়। দুর্বৃত্তরা ছাত্রনেতার বসতবাড়ির সীমানা প্রাচীর ও আয়ের একমাত্র উত্স ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়ে বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতিসাধন করেছে। গত ২৫ মে (সোমবার) রাত সোয়া ৯টার দিকে খোলাডাঙ্গা কদমতলা মোড়ের জনাকীর্ণ এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাঠপর্যায়ের একজন অগ্রগামী নেতার পরিবারের ওপর প্রকাশ্য দিবালোকে ও রাতের আঁধারে এমন সন্ত্রাসী কায়দায় হামলার ঘটনায় স্থানীয় ছাত্র সমাজ ও সচেতন মহলের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও চরম সামাজিক অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রনেতা রাশেদ খান বাদী হয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় অভিযুক্ত প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে একটি সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
থানায় দায়েরকৃত লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী ছাত্রনেতা রাশেদ খানের বাড়ির ঠিক পাশেই অভিযুক্ত প্রতিবেশীদের বসবাস। জমিজমা ও সীমানা নির্ধারণ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র কোন্দল ও পূর্ব শত্রুতা চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৫ মে রাত ৯টা ১৫ মিনিটের দিকে প্রতিবেশী মনা, ইমন, জুলি খাতুনসহ আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা সংঘবদ্ধ হামলাকারী দেশীয় রামদা, ধারালো দা, লাঠি ও লোহার কুড়াল নিয়ে রাশেদ খানের বাড়ির সংলগ্ন দোকানের সামনে এসে অতর্কিত হানা দেয়। তারা সেখানে এসেই রাশেদ খান ও তাঁর পরিবারের নারীদের উদ্দেশ্য করে অত্যন্ত অকথ্য ও কুৎসিত ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে, যা পুরো কলোনীবাসীদের মাঝে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
রাশেদ খান অভিযোগে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেন, প্রতিবেশীদের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত গালিগালাজ ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানালে এবং বাধা প্রদান করলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর ওপর চড়াও হয় এবং তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাঠি দিয়ে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলফোলা জখম করে। একই সাথে ক্ষ্যাপাটে হামলাকারীরা লোহার সাবল ও কুড়াল দিয়ে আঘাত করে তাঁর দোকানের সাটার, আসবাবপত্র এবং বসতবাড়ির ইটের তৈরি পাকা প্রাচীর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। এতে তাদের প্রায় ২ লাখ টাকার অপূরণীয় ক্ষয়ক্ষতি করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। হামলার একপর্যায়ে অভিযুক্তদের মধ্যে দুই জন সপরিবারে উচ্ছেদ বা প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে ধারালো কুড়াল উঁচিয়ে সরাসরি রাশেদ খানের গলার দিকে তেড়ে আসে।
এ সময় নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচতে ছাত্রনেতা রাশেদ খান চিৎকার শুরু করলে তাঁর আর্তনাদ ও শোরগোল শুনে আশেপাশের সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় তারা রাশেদ খানকে রাজপথে একা পেলে কিংবা থানায় কোনো আইনি পদক্ষেপ নিলে তাঁকে ও তাঁর পুরো পরিবারকে বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়া বা প্রকাশ্য প্রাণনাশের হুমকি প্রদর্শন করে বীরদর্পে চলে যায়। ভুক্তভোগী ছাত্রনেতা রাশেদ খান সংবাদমাধ্যমকে অত্যন্ত আক্ষেপ ও ক্ষোভের সাথে জানান, হামলার ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত মনা ও ইমন সিন্ডিকেটের সদস্যরা এখনও নিয়মিতভাবে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে নানামুখী ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে, যার ফলে বর্তমানে পুরো পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের মধ্যে দিনাতিপাত করছে।
বিষয়টি নিয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতার বাড়িতে হামলার লিখিত অভিযোগটি তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেছেন। খবর পাওয়ামাত্রই কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি বিশেষ আভিযানিক দল ঘটনাস্থল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরিদর্শন করেছে । ছবি সংগৃহীত।

