স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে খ্যাত বিদগ্ধ জেলা যশোরের তরুণ ও নতুন প্রজন্মের মাঝে নিয়মিত বই পড়ার সুঅভ্যাস বা পাঠাভ্যাস ফিরিয়ে আনতে এবং তাদের পুনরায় বইমুখী করে তুলতে এক বর্ণাঢ্য আয়োজনে তিন দিনব্যাপী ‘যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি বইমেলা’-র জমকালো সূচনা করা হয়েছে। আজ শুক্রবার (২২ মে) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঐতিহাসিক যশোর টাউন হল ময়দানের ঐতিহ্যবাহী রওশন আলী মঞ্চে রঙিন বেলুন উড়িয়ে এই জ্ঞানগর্ভ বইমেলার আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত (এমপি)।
যশোর জেলা প্রশাসনের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও বিশেষ উদ্যোগে আয়োজিত এই উদ্বোধনী পর্বে সভাপতিত্ব করেন যশোরের জেলা প্রশাসক আশেক হাসান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার নান্দনিক গুরুত্ব তুলে ধরেন জেলা পরিষদ প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন। এছাড়া উদ্বোধনী মঞ্চে সংহতি প্রকাশ করে যশোরের বিভিন্ন স্বনামধন্য সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আজকের এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যশোর উপশহর ও মূল শহরের বিভিন্ন নামী-দামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর প্রাণবন্ত উপস্থিতি ছিল সত্যি চোখে পড়ার মতো। উৎসবমুখর পরিবেশের সূচনা পর্ব শেষে রওশন আলী মঞ্চে এক মনোজ্ঞ ও মননশীল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোমলমতি ও তরুণ শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে চিত্তাকর্ষক কবিতা আবৃত্তি, কালজয়ী গান এবং চমৎকার দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে উপস্থিত সুধীজন ও বইপ্রেমীদের মুগ্ধ করে। এদিকে মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেছে, দেশী-বিদেশী বিভিন্ন নামকরা প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ও ঐতিহ্যবাহী বই বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের আকর্ষণীয় সব স্টল দিয়ে মেলা চত্বর সাজানো হয়েছে। যশোর ইনস্টিটিউটের বিশাল মাঠ ও ভবনের নিচতলার পত্রিকা পাঠকক্ষে স্থাপিত প্রথমা প্রকাশন, শিক্ষা ফাউন্ডেশন, হাসান বুক ডিপো, জনতা লাইব্রেরি, জাসাসসহ বিভিন্ন সৃজনশীল স্টলগুলোতে প্রথম দিনেই ঝিনাইদহ ও যশোরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বইপ্রেমী, লেখক ও পাঠকদের উপচেপড়া ভিড় এবং বই কেনার ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে।
যশোর জেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে জানানো হয়েছে, আজ ২২ মে থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ বইমেলা আগামী ২৪ মে পর্যন্ত টানা তিন দিন ধরে চলবে। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে শুরু হয়ে রাত ৮টা পর্যন্ত সর্বস্তরের জনসাধারণের জন্য মেলা প্রাঙ্গণে বই প্রদর্শনী ও আকর্ষণীয় ছাড়ে বই বিক্রয় কার্যক্রম উন্মুক্ত থাকবে। শুধু বই কেনাবেচাতেই মেলা সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং মেলা চলাকালীন প্রতিদিন মেলা প্রাঙ্গণে নতুন প্রজন্মের মেধা বিকাশের লক্ষ্যে উৎসবমুখর পরিবেশে কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতা, তাৎক্ষণিক বই পড়া প্রতিযোগিতা, বিষয়ভিত্তিক আলোচনা সভা, নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন এবং স্থানীয় কবি-সাহিত্যিকদের অংশগ্রহণে জাঁকজমকপূর্ণ সাহিত্য আসরের বিশেষ আয়োজন রাখা হয়েছে। প্রাক-ঈদের এই সময়ে শহরে এমন একটি চমৎকার ও জ্ঞানভিত্তিক আয়োজন প্রবীণ ও নবীন নাগরিকদের মাঝে এক উৎসবের আমেজ তৈরি করেছে। ছবি সংগৃহীত।

