যশোরে কিংশুকের ‘সাঁজবাতি’ মঞ্চে রবীন্দ্র-নজরুল জন্মজয়ন্তী

যশোরে কিংশুকের ‘সাঁজবাতি’ মঞ্চে রবীন্দ্র-নজরুল জন্মজয়ন্তী

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

যশোরের প্রাচীনতম ও গৌরবময় সাংস্কৃতিক বিদ্যাপীঠ ‘কিংশুক সংগীত শিক্ষা কেন্দ্র’-এর সাঁজবাতি মঞ্চে আয়োজিত রবীন্দ্র-নজরুল জন্মজয়ন্তী উৎসবের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথির গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সম্মানিত প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খান খোকন। তিনি তাঁর বক্তব্যে দেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অতীত ও বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, একসময় নানা সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতার কারণে দেশের সুস্থ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড প্রচণ্ডভাবে বাধাগ্রস্ত হতো। তবে বর্তমানে সেই দমবন্ধ পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন হয়েছে এবং দেশে সুস্থ ধারার সংস্কৃতিচর্চার জন্য একটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও স্বাধীন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি দেশের সামগ্রিক অপসংস্কৃতি রোধে এবং নতুন প্রজন্মকে মানবিক মূল্যবোধে বলীয়ান করতে দেশের সর্বস্তরের সাংস্কৃতিক কর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার জোরালো আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করে অতিথিদের বরণ করে নেন কিংশুক সংগীত শিক্ষা কেন্দ্রের দক্ষ সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল কবীর সোহেল।

অনুষ্ঠানে বিশিষ্টি আলোচক হিসেবে উপস্থিত থেকে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী জীবন, দর্শন এবং বাংলা সাহিত্যে তাঁদের অনন্য সাহিত্যকর্ম নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ও তাত্ত্বিক আলোচনা করেন শ্রদ্ধেয় প্রভাষক অরুণ মজুমদার। এদিনের উৎসবমুখর সাহিত্য ও সংগীতের মিলনমেলায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট লেখক অধ্যাপক কাজী শওকত শাহী, জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের সভাপতি মোস্তাক আহমেদ পলাশ, প্রিয়া পরিষদের সভাপতি ফিরোজা মুস্তাক এবং শব্দ থিয়েটারের প্রখ্যাত নাট্যকার মাস উদ জামানসহ স্থানীয় সাংস্কৃতিক ও সামাজিক অঙ্গনের একঝাঁক বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শুভ সূচনায় কিংশুকের মূল ও শিক্ষানবিস শিল্পীরা সমবেত কণ্ঠে কবিগুরুর কালজয়ী রবীন্দ্রসংগীত ‘হে নূতন, দেখা দিক আরবার’ এবং জাতীয় কবির দ্রোহ ও প্রেমের নজরুলসংগীত ‘তৃষিত আকাশ কাঁপে রে’ পরিবেশন করে পুরো মিলনায়তনে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করেন। এরপরই মঞ্চে আসে কিংশুকের একঝাঁক খুদে ও উদীয়মান শিল্পী। তাদের সুমিষ্ট ও সম্মিলিত কণ্ঠে পরিবেশিত ‘আমরা সবাই রাজা আমাদের এই রাজার রাজত্বে’ গানটি উপস্থিত দর্শকদের বিশেষভাবে মোহিত ও করতালিতে মুখরিত করে তোলে।

এর পাশাপাশি কিংশুকের শিক্ষার্থী শিল্পীরা রবীন্দ্র ও নজরুল সংগীতের ধ্রুপদী তালের সাথে চমৎকার দলীয় নৃত্য পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে এক অনবদ্য একক সংগীতানুষ্ঠান পরিবেশিত হয়, যেখানে সুনিপুণ কণ্ঠে একক গান গেয়ে দর্শকদের মন জয় করেন শিল্পী সুদীপ্ত বিশ্বাস, নাফিসা, দেবযানী রায়, রাইয়ান হক, দুর্গা রায়, প্রাপ্তি, অনুষ্কা পোদ্দার, সপ্তর্ষি অধিকারী, সিয়াম আজম, আয়মান সাদাত, রীতি মল্লিক ও সুপ্রিতা মল্লিকসহ সংগঠনের একঝাঁক গুণী শিক্ষার্থী। উৎসবমুখর ও আভিজাত্যপূর্ণ এই আয়োজনের সমাপনী বক্তব্যে আয়োজকেরা বলেন, রবীন্দ্র ও নজরুল চর্চার সুগভীর প্রসারের মাধ্যমেই কেবল বর্তমান সমাজে বাঙালির হাজার বছরের গৌরবময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও অসাম্প্রদায়িক মানবিক মূল্যবোধের শাশ্বত বার্তা নতুন প্রজন্মের হৃদয়ে সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *