স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর সদর উপজেলার ৪নওয়াপাড়া ইউনিয়নের আড়পাড়া গ্রামে ২০ বিঘা আয়তনের একটি ঘেরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ৫ লক্ষ টাকার মাছ মেরে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে ঘের মালিক মাছগুলো মরে ভেসে উঠতে দেখেন। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
আড়পাড়া গ্রামের ক্লাব মোড় এলাকার আবু সাঈদের মালিকানাধীন ২০ বিঘা জমি লিজ নিয়ে মাছ চাষ করছিলেন যশোর জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সিরাজুল ইসলাম সিরাজ। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি ঘেরে গিয়ে দেখেন, চাষ করা বিভিন্ন প্রজাতির ছোট-বড় মাছ মরে পাড়ে ভেসে উঠেছে। ভুক্তভোগী সিরাজের দাবি, গত রাতে কোনো এক সময় শত্রুতাবশত বিষাক্ত কোনো কীটনাশক বা বিষ প্রয়োগ করে তার ঘেরের এই বিপুল পরিমাণ মাছ মেরে ফেলা হয়েছে, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ৫ লক্ষ টাকা।
ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলাম সিরাজ এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পেছনে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন। তার সন্দেহভাজনরা হলেন—আড়পাড়া এলাকার গোলাম মোস্তফার ছেলে রিফাত, মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে ফারুক হোসেন এবং মৃত নিকাইলের ছেলে ইউনুসসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজন।
সিরাজ জানান, ঘেরটি লিজ নেওয়ার সময় থেকেই এই চক্রটি তাকে বাধা দিয়ে আসছিল এবং নানাভাবে ঝামেলা করছিল। তাদের দাবি ছিল—এলাকার ঘের তারা নিজেরাই চাষ করবে, বাইরের কাউকে সেখানে মাছ চাষ করতে দেওয়া হবে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অভিযুক্ত এই চক্রটি বিএনপির নাম ভাঙিয়ে এলাকার বেশ কয়েকটি ঘের জোরপূর্বক দখল করেছে এবং মাছ লুটপাট চালিয়েছে। নিজেদের এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করতে তারা লিজ গ্রহীতাদের বিভিন্ন সময় ‘হুংকার’ ও হুমকি দিয়ে আসছিল। তারই ধারাবাহিকতায় এই বিষ প্রয়োগের ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই অমানবিক ঘটনায় নিঃস্ব হয়ে পড়া যুবদল নেতা সিরাজুল ইসলাম সিরাজ জানান, তিনি এই পরিকল্পিত মৎস্য নিধনের ঘটনায় অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে তিনি খুব দ্রুতই থানায় মামলা ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। ছবি সংগৃহীত।


