স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার হাজরাকাটি গ্রামে অবস্থিত পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর ‘নিউ ব্রিকস’ নামের একটি অবৈধ ইটভাটা অবিলম্বে বন্ধের দাবিতে রাজপথে নেমে বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। ২৩ জুন ২০২৬ মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ওই বিতর্কিত ইটভাটার সামনের প্রধান সড়কে এই মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। পরিবেশ দূষণকারী ও নিয়মবহির্ভূতভাবে গড়ে ওঠা এই ভাটার আশপাশে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাসকারী প্রায় ৫০টি পরিবারের আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা এই মানববন্ধনে অংশ নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী ভুক্তভোগী গ্রামবাসী অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট ইটভাটাটি কোনো প্রকার নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিষাক্ত ধোঁয়া ও বর্জ্য নির্গত করে পরিবেশ ও বসবাসের সম্পূর্ণ অনুপযোগী এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি তৈরি করছে। বিষয়টি নিয়ে এর আগে তারা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, মনিরামপুর উপজেলা ভূমি অফিস এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একাধিকবার সুনির্দিষ্ট প্রমাণাদিসহ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো দপ্তর থেকেই কার্যকর কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ বা তদন্ত করা হয়নি। প্রশাসনের এই রহস্যজনক নীরবতার পর বাধ্য হয়ে আজ এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে মানববন্ধনের মাধ্যমে রাজপথে নিজেদের বাঁচানোর আকুল দাবি তুলে ধরেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই ইটভাটাটির মাত্র ১৫০ গজের মধ্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখানে প্রতিদিন হাজারো শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। এছাড়া ভাটার একদম আশপাশে একাধিক উর্বর আবাদি কৃষি জমিও অবস্থিত। ভাটার চিমনি থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া ও পরিবেশগত মারাত্মক প্রভাবের কারণে স্কুলগামী শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় আপামর গ্রামবাসীর শরীরে নানাবিধ জটিল রোগসহ চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন। পাশাপাশি কৃষিজমিতে বিষাক্ত ছাই পড়ার কারণে ফসলের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াসহ আগামীতে ফলন বিপর্যয়ের তীব্র আশঙ্কা প্রকাশ করেন কৃষকেরা।
মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে স্থানীয় হাজরাকাঠি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কওসার আলী বলেন, আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একেবারে গা ঘেঁষে এই নিয়মবহির্ভূত ইটভাটাটি তৈরি করা হয়েছে। স্কুলের পাশাপাশি ইটভাটার চুল্লি থেকে সার্বক্ষণিক যে বিষাক্ত ধোঁয়া বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে, ওই ধোঁয়ায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ফুসফুসের রোগসহ নানাবিধ মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি প্রতিনিয়ত বাড়ছে। তিনি অবিলম্বে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় এই ভাটাটি অন্যত্র স্থানান্তরের দাবি জানান। মানববন্ধন থেকে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী বর্তমান জনবান্ধব সরকারের সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং দায়েরকৃত অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে জনস্বার্থে এই অবৈধ ইটভাটাটি স্থায়ীভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান। ছবি সংগৃহীত।

