স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
বিশ্বকাপ ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট কার মাথায় উঠবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে এখন টানটান উত্তেজনা। রুদ্ধশ্বাস সেমিফাইনালে পরাশক্তি ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের স্বপ্নযাত্রা থামিয়ে দিয়ে ফাইনালের মহারণ নিশ্চিত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং ইউরোপের অপ্রতিরোধ্য দল স্পেন। মাঠের এই চোখ ধাঁধানো মহাযুদ্ধের আবহেই, ভার্চুয়াল জগতের বড় একটা অংশ মেতে উঠেছে রহস্যময় বুলেগেরিয়ান অন্ধ জ্যোতিষী ‘বাবা ভাঙা’র এক কথিত চাল নিয়ে।
বৈশ্বিক মহামারি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা রাজনৈতিক পালাবদলের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে বাবা ভাঙার নাম জড়িয়ে অতীতে বহু মুখরোচক গল্প ছড়ানো হয়েছে। এবার সেই একই কায়দায় ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে নেটদুনিয়ায় তাঁর অবৈজ্ঞানিক ও কথিত কিছু ভবিষ্যৎ বাণী ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে। অনেকেই দাবি করছেন, এই অন্ধ নারী নাকি বহু বছর আগেই এবারের চ্যাম্পিয়ন দলের দিকে ইশারা করে গেছেন!
অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন দাবিতে ফুটবল বিশ্বের যে শক্তিগুলোর ভাগ্য গণনা করা হচ্ছিল, তাদের বর্তমান পরিস্থিতি এমন:
-
আর্জেন্টিনা ও স্পেন: সব হিসাব-নিকাশ উল্টে দিয়ে যারা নিখুঁত ফুটবলের জোরে ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে।
-
ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও পর্তুগাল: দুর্দান্ত স্কোয়াড থাকা সত্ত্বেও সেমিফাইনালের গণ্ডি পার হওয়ার আগেই যাদের এবারের মিশন শেষ হয়ে গেছে।
গুজব বনাম বাস্তব ফুটবল:
শিরোপার লড়াইয়ে এখন ফুটবল মানচিত্রের দুই পরাশক্তি—আর্জেন্টিনা ও স্পেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি বড় অংশ আর্জেন্টিনার ট্রফি জেতার পক্ষে বাবা ভাঙার তথাকথিত বাণীকে রেফারেন্স হিসেবে দাঁড় করালেও, বাস্তবিকভাবে এর কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই।
ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, এই ধরণের অলৌকিক বাণীর কোনো যাচাইযোগ্য দলিল থাকে না। এগুলো মূলত ভিউ ও লাইক পাওয়ার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত কিছু ফেসবুক ও এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলের মনগড়া প্রচার বৈ কিছু নয়।
ফুটবলের বিশ্বজয়ের ভাগ্য কোনো অতিন্দ্রীয় বা অলৌকিক বাণীতে নির্ধারিত হয় না। মাঠের ভেতরের রণকৌশল, ডাগআউটের মেন্টাল গেম এবং মূল ম্যাচের ৯০ মিনিটের লড়াকু ফুটবলই ঠিক করবে—কোন দল শেষ পর্যন্ত সোনালী ট্রফিটি উঁচিয়ে বিশ্বমঞ্চ কাঁপাবে। ছবি সংগৃহীত।


