স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের শার্শায় বাক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী এক দম্পতির ৮ বছর বয়সী অবুঝ কন্যাসন্তানকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টার এক লোমহর্ষক ও বর্বর ঘটনা ঘটেছে। এই অমানবিক ঘটনার পর শার্শা থানা পুলিশের একটি চৌকস দল সারা রাত ব্যাপী চিরুনি অভিযান চালিয়ে ঘটনার প্রধান ও একমাত্র এজাহারনামীয় আসামি মোঃ নূরুল হক নূরুকে (৪০) গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।
আজ শুক্রবার (১৭ জুলাই ২০২৬) সকাল ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে শার্শার ডিহি ইউনিয়নের শাড়াতলা বাজারের পূর্ব পাশ দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় তাকে হাতেনাতে পাকড়াও করা হয়। গ্রেফতারকৃত নূরু শার্শা থানার কৃষ্ণপুর (দক্ষিণপাড়া) গ্রামের মৃত শামসুল হকের ছেলে।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম শিশুর (০৮) বাবা ও মা দুজনেই জন্মগতভাবে বাক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী। গত ১৬ জুলাই ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা অনুমান ৭টা ০৫ মিনিটের দিকে শার্শার কৃষ্ণপুর দক্ষিণপাড়া এলাকায় এই অসহায় সুযোগটি নেয় প্রতিবেশী পাষণ্ড নূরুল হক নূরু। সে ৮ বছরের শিশুকে একা পেয়ে ফুসলিয়ে নিজের দোচালা টালির ছাউনিযুক্ত ঘরে নিয়ে যায় এবং তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায়।
পরবর্তীতে শিশুর গোঙানি ও ধস্তাধস্তির শব্দে তার চাচী ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে পাষণ্ড নূরু পালিয়ে যায়। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার পর চাচী নিজে বাদী হয়ে শার্শা থানায় নূরুর বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণের চেষ্টা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) মোঃ আনিসুর রহমান সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্স নিয়ে এক মুহূর্তও সময় নষ্ট না করে মাঠে নামেন। পুরো এলাকা জুড়ে রাতভর চালানো হয় রুদ্ধশ্বাস অভিযান। অবশেষে আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় শাড়াতলা বাজার এলাকা দিয়ে পালিয়ে সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করার সময় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
শার্শা থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামি নূরুল হক নূরুকে আজ বিকালেই বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এই ঘৃণ্য অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে পুলিশ তদন্ত কার্যক্রম আরও জোরদার করেছে। ছবি সংগৃহীত।


